ডাকপিওনরা হরতাল ডেকেছে। তাদের অনির্দিষ্টকাল ঘুমোতে দিতে হবে। বেশ কথা। তারা পোস্টাপিসের সামনে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোচ্ছে। হরতাল করতে দিতে হবে, এই দাবীতে হরতাল করলে কেউ মানবে? ঘরে ঢুকে এসে কানের কাছে মুখ নিয়ে “আসতে পারি?” জিজ্ঞেস করবার মত অবস্থা। আপাতত কারও হেলদোল নেই। রাস্তায় চৌকো সাদা-নীল গাড়ি চোখে পড়ছে না। বাক্সে রাজ্যের “ধার নেবে ধার? কোনও সুদ নেই, মায়ের দিব্যি। প্রথম বছর কোনও সুদ নেই, তারপর আড়াই প্যাঁচে গলা কাটব, নেবে ধার? নাও না!” মার্কা আর্জেন্ট ছাপ্পা চিঠি জমছে না৷ তাই কারও কোনও মাথাব্যথা নেই। পিওনরা ঘুমুচ্ছে। ঘুমুচ্ছে মাকড়সারা। ডাকবাক্সের গায়ে।

কে জানত এই বাজারে চারটে চিঠি জমে আছে? কার ব্যাগে কোন বাক্সে তা মা ডাকেশ্বরীই জানেন। দু’টো আপ চিঠি, দু’টো ডাউন। ঝর্ণা কলমে লেখা চাট্টি ভালোবাসার কথা। জিভে প্রেম নিয়ে চেটে আঠালো করে বন্ধ করা খাম। চারআনার টিকিট সাঁটা। গোটা গোটা করে ঠিকানা লেখা। ভীষণ দরকারি চিঠি। সীল নেই, মোহর আছে। (হ্যাঁ, এ’টা পেইড প্রোমোশন।) প্রাণ নিয়ে টানাটানি অবস্থা। এ’দিকে হরতাল।

ডেকে ডেকে পাচ্ছিনে। রানার শুয়েছে বালিশের বোঝা রয়েছে মাথার নীচে, আমি রোজ রোজ ডাকবাক্সটা চেক্ করে মরি মিছে। আমি না আমি না। আস্কিং ফর এ ফ্রেন্ড। আমি ডাক শুনলে মাথা নীচু করি। আর যাবতীয় সদুপদেশ বাউন্সারের মতো (বা ট্যাঞ্জেন্ট) মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। নয়ত বারের বাইরে দাঁড়িয়ে বলে “প্রবেশ নিষেধ”। ভাট বকছি? কী বললে? ভাট বকছি? জানো, ওই চিঠিগুলো লাইফ সেভিং ড্রাগস? কী বললে? এলএসডি? এক মারব কানের গোড়ায়! কথা হয়না, কারুর সঙ্গে কথা হয় না, কারুর সঙ্গে না। ওর মধ্যে একশো আশি টাকা সের দরে চার পাতা কথা ছিল। তোমরা বুঝবে না।

আমি এই ঠোঁট চাটলাম। আর একটিও কথা না।