আমার খুব নাম দেবার শখ। হযবরলতে হিজিবিজবিজ আমারই কথা বলছিল বোধহয়। যদিও বাড়িয়ে বলেছে। ভূমিকম্প হয়নি মোটেই। টালিগঞ্জ থেকে সিটিসির বাস ছাড়ত একসময়। ট্রাম কোম্পানির নাম নিয়ে বাস কেন ছিল, সেই প্রশ্নের জবাব পাইনি এখনও। তো সেই বাস বেরোনর মুখে গাড্ডা থাকত প্রচুর, সারা বছর জলে ভরা। বাসগুলো ছপাৎ করে এত্তটা জল ছিটিয়ে বেরোত। সেই জল ছিটবার শব্দের নাম দিয়েছিলাম ফালতু। সব জল ছেটার আওয়াজ ফালতু হয় না। কেবল বাসের চাকা জলভর্তি গাড্ডা স্পর্শ করলে ফালতু। মা রুটি সেঁকত লোহার তাওয়ায়। তারপর সাঁড়াশি দিয়ে বেসিনে নামাতেই জল পড়ে ছসসস করে একটা আওয়াজ হয়ে ধোঁয়া উঠত বেশ খানিক। কেন কে জানে, সেই শব্দের নাম দিয়েছিলাম শট সার্কিট। শর্ট নয়। শট। সারাদিনের রোদ খেয়ে কালো পিচের রাস্তাগুলো ও’রকম তাওয়া গরম হয়ে থাকে। সন্ধ্যের দিকে খুব ছোট একটা পশলা বৃষ্টি হলে ও’রকম ধোঁয়া বেরোয় রাস্তা থেকে। রোজ কারেন্ট যাবার মতো নিয়ম করে বৃষ্টি হচ্ছে আজকাল। একটুই। একটা ছোট পশলা। জল জমা বৃষ্টি নয়। চাপ চাপ ভিজে হয়ে থাকা বৃষ্টি। “ওমা বৃষ্টি কখন নামল!” বৃষ্টি। টেরই পাওয়া যায় না। রাস্তায় নামলে হাঁটুকুয়াশা। তার মধ্যে হাঁটলে নিজেকে নায়ক নায়ক মনে হয়। এই দ্বিত্ব ব্যাপারটাও অদ্ভুত। জ্বর আসা মানে কাঁপুনি, ক্যালপল, কাঁথা, কিচ্ছু ভাল্লাগছে না। জ্বর জ্বর আসা মানে গা ম্যাজম্যাজ, পরজীবী ঘ্যানঘ্যান, গুম হয়ে বসে থাকা আর কিচ্ছু ভাল্লাগছে না। তোর আবার সবতাতে বেশি বেশি। অল্প অল্প করে সুতো ছাড়। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। আপাততঃ নায়ক নায়ক হয়ে হাঁটছি, আর আকাশের গায়ে টক টক গন্ধ।

বৃষ্টি না হলে রাস্তা কালো। বৃষ্টি হলে রাস্তা রঙিন। রঙের মহারাজ। ট্রাফিক সিগনাল রাস্তাবাতি মিলিয়ে একটা প্যালেট তৈরী হয়। তার মধ্যে একটা কালো বেড়াল রাস্তা কাটল। ওপার থেকে আমার দিকে এল। আমি থামলাম। বেড়ালের ন’টা জন্ম। আমার একটাই। ওতেই হবে। ন’টা জন্ম অভিশাপ। বেড়ালটার চোখ জ্বলজ্বল করছে। সম্মোহন। হাজার হাজার ডক্টর হাজরা। এগেইন। হাজার হাজার। মানে ঠিক এক হাজার নয়। অগুনতি হাজারও নয়। মোর দ্যান ওয়ান। ওতেই হবে। শঙ্খরূপাদি বলত এ’রকম। দ্বিত্বে। ঘরটা জল জল হয়ে আছে। হাইওয়েটা গাড়ি গাড়ি গাড়ি গাড়ি। ঘুম ঘুম পাচ্ছে। আমারও পাচ্ছে। চোখ জুড়িয়ে আসছে। কিন্তু মহাপুরুষদের রাত জাগতে হয়। হিমুর বাবা বলেছে। আমার বাবা বলেছে অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট, আর ইউ আর ফার ফ্রম সন্ন্যাসী। বাবা যেন ধোয়া তুলসীপাতা। আমি ধোঁয়া তামাকপাতা। নোটিস দি চন্দ্রবিন্দুর চ। কালো বেড়ালটা আমাকে প্রবল তাচ্ছিল্য করে একটা তালব্য শ রেখে চলে গেল। রুমালের মা কেঁদে ভাসাচ্ছে। আমার ছেলে পুজোর আগে আসবে তো? এক পিস জ্যোতিষী আছে। বলেছে আশ্বিন মাস থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে। না যদি হয়েছে শালা, গর্দান নেবো। ছি ছি। আবার দ্বিত্ব। একটা ছি আর একটা ছি ছি তে তফাৎ আছে। লোকে ছি করে না। ছি ছি করে। এমা ছি ছি বোকা। কেউ হা করে হাসে? উঁহু। হাহা করে হাসে। ঢক ঢক করে জল খায়, কিন্তু ঢক করে ঢোঁক গেলে। খিদে খিদে পাওয়া মানে চোখের খিদে। এক পেট খাওয়ার পর কী যেন একটা বাকি। শীত লাগলে লেপ। শীত শীত লাগলে শাল। গরম গরম কচুরি। খবর। কিছুই বোঝো না। রাস্তাটা এবার ঢালু নেমে যাবে। ঢালু নামতে ভারী মজা। কিন্তু তার পর ফেরার সময় চড়াই উঠতে হবে যে, সে’টা কি তোর বাপ উঠবে? বাপ তুলে গালি দিচ্ছিস কেন? বেশ করছি। এ’রকম রগচটা হলে মেয়ে জুটবে না কোনওদিন। এমনি যেন জুটে উদ্ধার করে দিচ্ছে, রোজ রোজ বাহাত্তরটা। ফিরবি তো? চল ফিরি।

আমার বাড়ি ফেরা হয় না। বাড়ি আমার কাছে ফেরে। এসে বলে, “ইউ আর হোম।” আমিই বাড়ি?