অনেক পাতা ছিল। অনেক। আর নেই। একদিন বৃষ্টি হয়ে সব ঝরে গেছে। সেই বৃষ্টিটা হবার পর গোটা শহর পাতা পাতা হয়ে ছিল। রাস্তা মাটি দেখা যাচ্ছিল না মোটে। আজ ছিল ডাল ভরা, কাল পাতা যায় ঝরে, পরশু ধরণী ছেড়ে বিরাট বিমান ওড়ে। ব্যস। মিস শব্দের বাংলা কী? অভাব অনুভব করা? বাজে বাংলা। শুনলে মনে হয় ভারতীয় ক্রিকেট দল একজন খাঁটি অলরাউন্ডারের অভাব অনুভব করছে। না। আমি বলছি। বিরহাচ্ছে। বিরহাচ্ছি। বিরহানো। ভালো না? বেশ একটা বিরিয়ানি বিরিয়ানি ব্যাপার আছে। এগুলো আসলে রাতদুপুরের বাজে বকা। বাইরে পটাপট বাজি পুড়ছে। কেন? ম্যাচ জিতেছে বুঝি? অলরাউন্ডার ছাড়াই? ভাল্লাগছেনা। তক্ষক কি পাখি? প্যাঁচার মতো দেখতে? কেমন একটা খরখরে ব্যাপার আছে। মুখ ব্যাজার করে থাকা আর প্যাঁচার মতো করে থাকা কি এক জিনিস? বিরক্ত কোরো না আমি এখন লিখছি। দরকারি কাজ। না, আমি বোধহয় বাংলার পাঁচের মতো করে থাকা আর ব্যাজার করে থাকা কে গুলিয়ে প্যাঁচার মতো বানিয়েছি। আমার মুখ এখন প্যাঁচার মতোই। গোল গোল চোখ। উরিবাবা। ঘাড় ও হয়ত তিনশো ষাট ডিগ্রী ঘুরে যাবে। আচ্ছা কোণ মাপার কোনও বাংলা একক আছে? রাস্তা মাপে ক্রোশে। সময় মাপে মুহূর্তে, দণ্ডে, ঘন্টায়। কোণ মাপে কীসে? বৃটিশ আসার আগে বাঙালিরা কোণ মাপত না? নাকি কোণ নিজেই একক? কী জানি? ইংরেজিতে কোন মানে শঙ্কু। ত্রিশঙ্কু। শিঙাড়া। সব শঙ্কু গিরিডিতে থাকে না। সব শঙ্কু প্রোফেসর ও হয় না। যেমন সব ক্যালকুলাস প্রোফেসর হয় না। সব হিজিবিজবিজরাই প্রোফেসর হয় যদিও। সত্যজিৎ বাবু দূরদ্রষ্টা ছিলেন। বাবুবাবু শঙ্কু নিয়ে ফিলিম করবে জেনেই শঙ্কুর শনির দশা লিখেছিলেন। ও ও, মিস করা মানে ফস্কানো। দিব্যি বাংলা। আমি তোকে ফস্কাচ্ছি। না। না। বিরহাতে রাজি আছি। সয়ে নেবো। ফস্কাতে রাজি নই। একজন ঝাড়ুওলা গোটা শহর জুড়ে ঝাড়ু হাতে ঘুরে ঘুরে পাতা সাফাই করছে। সাফাই তো নয়। এক কোণে ডাঁই করছে। একটা দু’টো বেয়াড়া পাতা বেরিয়ে আসে। হাওয়া দিলে ঘুরপাক খায়। চণ্ডীতলা থেকে ঘুরতে ঘুরতে পুঁদিচ্চেরী গেছে। যাক্‌গে। হ্যাঁ গা, পাতার ওজন কত? আমি ঠিক করেছি চিঠি লিখলেই কল্যাণীয়াষু লিখব। ঠিকানা লিখতে হবে না। এমনি এমনি উড়ে যাবে। যেমন যাচ্ছে। ফুরফুর করে। পরমকল্যাণবরেষু ও লিখতে পারি। কিন্তু লিখব না। ভীষণপাচ্ছেবরেষু। ভীষণপাচ্ছেবউএষু। এষু তো। জলদি এষু। একটা বিচ্ছিরি ছেলে আছে ওই পাড়ায়। হৃদকমলে থাকে। যেমনি বিচ্ছিরি পাড়ার নাম। ওইখানেই থেকে গেলে পারে। পিছু পিছু আসতে হবে না। কল্যাণীয়াষু একজন, আমি স্বপ্নে দেখলাম আমি তালপাতার সেপাই হয়ে গেছি। এই সরু সরু হাতপা। বেমানান গোঁফ। পাইকারি রেটে পাইক ঠ্যাঙাচ্ছি। ইয়োড্ডিসুম্‌। জমিদারের লেঠেল আআআআআ করতে করতে কুপোকাত। তারপর হাতে কোথা থেকে একটা ইউকুলেলে চলে এলো। আর মাথায় হেলমেট। আর এলেমেল ভেস্পার মধ্যে থেকে কে একটা গাইছে, শুড আই স্টে, উড ইট বি আ সিন? সিন হবে বটে একটা। জব্বর সিন হবে। একজন আমায় বলবে “ইয়ে প্ল্যান ঠিক হ্যায়, ইয়া অভি ভাগ চলে?” আর পিছনে ভমশি ভমশি বলে হিমাচলী না তিব্বতী গান শুরু হয়ে যাবে। ফির সে উঢ় চলা। এক মিনিট। হিন্দি কেন বলল? ও বলেই থাকে। সেদিন বলেছে, মুখ উঠিয়ে চলে এসেছে। ভাবা যায়? যায়? প্লেটে করে মুণ্ড সাজিয়ে চলে আসছে। পিছন থেকে মা কালী চেঁচাচ্ছে। এই আমার মুণ্ডু ফেরত দে! দে বলছি! এদিকে শিবকাকা কুশ খেয়ে উঠোনে পড়ে ছিল। ব্যস। হোঁচট। অ্যালললল জিভ। হিন্দুকুশ টু কলোরাডো। সাধে ডেনভার বলেছিলেন, রকি মাউন্টেন হাই? হাই বলে হাই। চিলের মতো চরকি খাচ্ছে।
ন্যাড়াগাছ টু ন্যাড়াগাছ বছর ঘুরতে চলল। এখনও কুমীর এলো না। খাল কেটে বসে আছি। সেই খাল দিয়ে মীরাবাঈ পাহাড়তলী যায়।