চয়েচয়ের উপর বহুদিনের অনুরাগ আমার। যবে থেকে ঠাকুর্দাকে খচানোর পর “খচ্চর ছেলেপুলে হয়েছে বাড়িতে” শুনেছি, সেই তবে থেকে। এখনও শয়তানের দূত বাচ্চা দেখলেই তিলেখচ্চর বলতে ইচ্ছে করে। বলেও দি। বাংলা ক’জন বোঝে এখানে? মুখ খারাপ হয়ে গেছে আজকাল। বাংলাই বলি, কিন্তু ক্রিয়াপদগুলো নিজের মতো করে নিই। রবিবর্মা লিখেছিল, তেয়াগি। আকাশের তারা তেয়াগি কায়। ত্যাগ করে। দিব্যি গুটিয়ে নেওয়া ক্রিয়া। আমিও বলি। স্নানাচ্ছিলাম। কাজাচ্ছিলাম। শব্দের চচ্চড়ি। চয়েচয়ের উপর এই প্রীতির দরুণ হ’গুলো উধাও হচ্চে। উত্তুরে কলকাত্তাইয়ারা অবিশ্যি কবেই হ’এর পিণ্ডি চটকেছে। “বললেই তো আর যাচ্চি না, ক’দিন একনও আচি।” জোচ্চরের দল সব। মশা কে বলে মোশা। আমার এ’রম একটা বন্দু আচে। দিবারাত্র আমার ক্লাসের খাতা নাগালে পেলেই কার্টুন আঁকবে। একদিন দেখি একজন মহিলাকে এঁকেছে, তার মুখ হুবহু কন্ট্রোল সিস্টেম্‌স এর ম্যামের মতন। সে মহিলা একটা বারকোশে দু’টো ইলিশের পেটি আর এক ঢিবি ভাত সাজিয়ে কাকে যেন ডাকছে। তলায় লেখা “ওলো আজ তোরা যাস্নে ঘরের বাহিরে।” আমার যেমন চয়েচয়ে, ওর তেমনি যুক্তাক্ষর প্রেম। করতে কে লিখবে কর্তে। মরতে কে মর্তে। এ’দিকে মৃত মানুষকে যে মর্ত্যে রাখা চলে না, সে বিষয়ে কোনও হুঁশ নেই। কিন্তু প্রেম হল প্রেম। যে কারণে চিত্রের দিকে চেয়ে থাকবার চেয়ে চলচ্চিত্র দেখতে চেয়েছি বেশি। গণেশ মুৎসুদ্দির পোর্ট্রেট ই হোক বা গগন ঠাকুরের, এক জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। তবু কচ্চিৎ কদাচিৎ আলোকচিত্র দেখি। হুঁ। জানি। জানি। বানান ভুল তো? মোটেই ভুল নয়। ওগুলি উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ। প্রচণ্ড আর প্রচ্চণ্ড এক হ’ল? এই যেমন এখন বাইরে হুলিয়ে লিলুয়া বাতাস দিয়েছে। সেইটে হল প্রচণ্ড হাওয়া। আর সেই হাওয়ায় একলা আমার বিচ্ছিরি বারান্দায় দাঁড়িয়ে যে মনকেমন পেটকেমন করছে, তার মানে হ’ল তোকে আমি প্রচ্চণ্ড ভালোবাসি।