এ’রকম জ্বর হলে মনে হয় আজীবন ভিজে বিছানায় শুয়ে আছি। পাশ ফিরলে মনে হয় শরীরের চাপে তোষকের স্পঞ্জ নিংড়ে টেথিস সাগরের নোনা জল উঠে আসে। উপুড় হয়ে শুতে ভয় হয়। ডুবে যাই যদি। সূর্যের আলো একটা ‘তোকে ছুঁলে পাপ’ কোণে জানলা দিয়ে ঢুকে আসে। কাঠের মেঝেতে বরফি আঁকে। বিছানায় ওঠে না। কিচ্ছু শোকায় না। জুতোর বাক্সে বেড়ালছানার মতো কুঁইকুঁই করে কৌটোবন্দী প্রাণভোমরা। “জ্বর বই তো নয়। জ্বর কি আর কারুর হয় না? খালি অ্যাটেনশন খুঁজবার ছুতো”। বেশ। অ্যালুমিনিয়ামের রাংতায় এক পাতা তাই-ই এনে দাও দেখি।

একজনের স্বপ্ন দেখি। দেখি না। শুঁকি। চশমা খুলে রাখলে দেখতে পাই না। গন্ধে বুঝি। শুঁকতে কি পাও তুমি, দেড় ক্যুইন্টাল ওজনের স্তূপ? আমার তো পাশবালিশ ও নেই। বেশ একটা শাড়ি দিয়ে বানানো ওয়াড়। রোদে দেওয়া। একজন আপিস গেছে। তার বাড়িতে একটা মশা ঢুকেছে গতকাল। জিজ্ঞেস করলে বলবে, “মিটিং এ আছি।” হেহে। সে কারাণ্ডিকার। আমি সুলতান। দু’জনায় কথা বন্ধ। দুই দিকে মুখ করে তাকিয়ে আছি। রিং মাস্টার বোবো শেষ রাতে “আয় আয় আআআআয়” করে ডাকলেই সুলতান বিড়াল বনে ন্যাজ গুটিয়ে খাঁচায়। মাঝে মধ্যে উঁকি মারে। মুরগী পেয়েছে আমায়। ভাল্লাগে না। আমাকে ভ্যাঙাবে কেন ও? আমি মাঝেমধ্যে উত্তেজিত হয়ে প্রচণ্ড কে প্রচ্চণ্ড বলি বলে ও ও বলবে? আমি প্রচ্চণ্ড খারাপ পাই। যাক্‌গে। চশমাটা খুলেই রাখি। পরলে চোখে হারাই।