কোথাও বেড়িয়ে আসার পরের দিন একবার, আর তারও দিন দুই পরে একবার হালদার স্টুডিওতে যেতাম। একটা লম্বা আধস্বচ্ছ পাতায় অনেকগুলো খাপে নেগেটিভগুলো থাকত। খামের মধ্যে সবক’টা ছবি। আর একটা অ্যালবাম। অ্যালবামের মলাটে একটা বাচ্চার ছবি, নয়ত ঐশ্বর্য রাই এর ছবি। প্রত্যেক পাতায় পিঠোপিঠি দু’টো ছবি থাকত। বাড়ি ফিরেই হুমড়ি। আগে মা দেখবে। তারপর বাবা। তারপর আমি। তাই ওদের দেখাকালীন আমি নেগেটিভগুলো বের করে দেখতাম। কালো আকাশ। নীল সূর্য। মানুষগুলো কেমন সবুজ সবুজ। ওদের দেখা হলে ছবি চালান যেত অ্যালবাম বই এ। সময় ধরে। যাওয়ার দিন সকালেরটার পরেই যাতে ফেরার আগেরদিনের দুপুরটা না থাকে। তারপর আসত আমার হাতে। কিছু কিছু ছবির পিছনে বাবা সন তারিখ জায়গা লিখে রাখত। কিছু কিছুর পিছনে ক্যাপশন। তবে সে গুপ্তধনের সন্ধান কেবল আমিই জানতাম, হয়ত মা-ও। যাদের সঙ্গে গেছি বেড়াতে, তাদের সঙ্গে আবার দেখা হলে ব্যাগে করে অ্যালবাম নিয়ে যাওয়া হত। রোদে পোড়া, ঝলসানো, ঝিরিঝিরি, আউট অফ ফোকাস হলদেটে ছবিগুলো দেখে মাইরি বলছি, যতই ক্লিশে শোনাক, আবার ঘুরে আসা হয়ে যেত। বেশিরভাগ ছবিতে আমি গোমড়া, কারণ তক্ষুণি মায়ের ধমক খেয়েছি। তাও। যেগুলোতে আমরা তিনজন ই আছি, সেগুলো একেকটা পারস্পরিক “দাদা একটা ছবি তুলে দেবেন”- এর।

সেই অ্যালবামগুলোয়, মূলত পাহাড়ি অ্যালবামগুলোয় একটা ছবি থাকতই। সবার থাকত। আজ অবধি যত পাহাড়ে ঘোরার অ্যালবাম দেখেছি, সবার। ভেজা জামায় কোমরজল বঙ্গোপসাগরের মতই চিরন্তন, অবশ্যম্ভাবী। সে’টা হল পাহাড়ি রঙচঙা পোশাক পরে, পিঠে চা-তুলিয়েদের ঝুলি নিয়ে একটা ছবি। থাকবেই। আমার মায়ের আছে। সম্ভবতঃ আমারও আছে। চশমা শুদ্ধু। এই যে এত ভ্যানতাড়া করলাম, তার কারণ হচ্ছে কাশ্মীর কি কলির ইয়ে চাঁদ সা রোশন চেহেরার শর্মিলা ঠাকুরকে দেখে এতসব মনে পড়ল। গানটা থামলেই ভিতর থেকে হলুদ সালোয়ার কামিজ বেরিয়ে আসবে। আর ফেরার তিন দিন পর একটা চৌকো অ্যালবাম দেখে “ঈশ আমায় কী দেকাচ্চে” বেরোবে।