” আমায় আজ কিছু লিখে দিবি না? ”

লিখব বই কি! সাদা কাগজে, ঠোঙায়, বাসের টিকিটে, দেওয়ালে, তোর পিঠের উপর, আঙুল দিয়ে। লিখব। নাম লিখব, ঠিকানা, চাই কি একটা স্ট্যাম্প ও সেঁটে দেব। লিখব আজ।

পদ্য হবে কি গদ্য, জানা নেই। অন্ত্যমিল থাকবে, না অমিত্রাক্ষর, তাও না। কিন্তু লিখব! ঘুম চোখে, বছরের প্রথম নিশুত রাতে, স্থানকাল সন্ততি অগ্রাহ্য করে, দুপুর রাতের যোগ বিয়োগ গুলিয়ে ফেলে লিখব। খোলা চিঠি লিখব, বিটুইন দ্য লাইনস কেবল তুই-ই পড়বি। মুখ মিটকে হাসবি, ছদ্ম-বুলবলির মত ভেউ ভেউ করে কাঁদবি, ঘ্যাঁচ করে ঢ্যাঁড়া দিয়ে কেটে পাশে শুন্য বসাবি, অ্যাত্ত বড় জিভ বের করে বলবি “এএএএ বাবা!” তাই জন্য লিখব।

কী লিখব? অধ্যায় ভরিয়ে কালিদাসের মত বিরহবার্তা? শরৎবাবুর মত অভিমান? নিবেদন? অঙ্গীকার? তোর কথা? আমার খবর? স্মৃতিচারণ? শীতঘুমে ডুবে থাকা আলেক্স এর গল্প লিখি? পর্দার পিছনে উঁকি মারা মামদো ভূতটার কিসসা? বালি ঘড়ির দিনলিপি? একটি আধ-ফোঁকা সিগারেটের আত্মজীবনী? নোংরা কাউচের কাহিনী? নাকি ডিম পাউরুটি সসেজের রেসিপিটাই বাতলাই খোলসা করে? অথবা শিশি বোতলের গায়ে ধেবড়ে যাওয়া কাঁচ-রঙের ধারাবিবরণী লিখব? টুনটুনি বাল্ব গুলি জ্বলছে নিভছে।

যে বছর গত হয়েছে, তার কথা লিখব না, যে বছর সদ্যজাত, তার খবর জানি-ই নে। তোর প্রখর গোয়েন্দাবুদ্ধিতে সমাধান করা কেসগুলির কথা লিখতে পারি। তোর চির-সর্দি-সঞ্চিত নাকে নাকছাবিটা মানায় ভালো, এই বলে টোন কাটতে পারি। আর তোকে জ্ঞান দিতে পারি অগাধ!

আজ তোকে কিছু লিখে দেব। পড়বি তো?

Advertisements