একটা ছোট্ট মফস্বলী শহরতলী। শীর্ষেন্দুর নবাবগঞ্জ কি চক্রপুরের মতন ছোট্ট, শহর হতে তার ঢের বাকি। আবার গাঁ বলতেও বাধে। এক টুকরো পাহাড়ি বসতি। আর তার সিকিমাপের ডাউনটাউন। ট্যুরিস্ট স্পট নয়। ভ্রমণ পিপাসুরা এর পাশ কাটিয়ে পাহাড়মুখো হয়। আমাদের তেল শেষ হয়ে গিয়েছিল। অগত্যা।

ডজনখানেক হলিউডি সিনেমা ভেসে উঠল চোখের সামনে। একজন শেরিফ থাকে সেসব সিনেমায়, এসব টাউনে। তিনি প্রৌঢ়। অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ। সেরকম কোনও খুন ডাকাতি হয় না এখানে। শান্তিপূর্ণ জায়গা। মুনশাইনে মাতাল হয়ে বাড়ি ফিরে বউ এর ঝাঁটা খায় কেউ, তার দুঃখের গল্প শোনেন শেরিফ। একজন পেটোয়া চোর আছে তার, সে দু’হপ্তা থানায় দু’দিন বাইরে কাটায়। শেরিফের সাথে তার খুব দোস্তি। মেরি অ্যানের জার্মান শেফার্ড হারিয়ে গেলে সে শেরিফ কাকুর কাছে এসে কান্নাকাটি করে। হুইসিল নিয়ে তাকে খুঁজতে বেরোন শেরিফ। শেফার্ডকে পাওয়া যায় পল’স স্টেকহাউসের সামনে। রোজ। এই করেই দিন কাটে শেরিফের।

একজন মেয়র আছেন। ডাকসাইটে মহিলা। সক্কলের প্রিয় ও সম্ভ্রমের মানুষ। শেরিফের হাল্কা ব্যথা ছিল এর উপর। মেয়র সেটা জানেন। মজা পান জেনে। গল্পটা জমে ওঠেনি। এর ছেলেমেয়ে শহরে গেছে। নিউ ইয়র্ক সিটি। ওয়াশিংটন ডিসি এখান থেকে ঘন্টা আড়াই এর পথ। অথচ ভার্জিনিয়া কত আলাদা। মেয়রজ্যেঠি এই নিয়ে তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়েছেন। আজকের মেঘলা হাওয়াবাতাসের সকালে তার তৃতীয়বার অভিষেক হল।

গল্পের মূল মুখ একটি ছেলে। সে হাই-ইস্কুলে পড়ে। বোনের সাথে মারপিট করে। নিজের গ্যাং এর সাথে চরকি কাটে। সাইকেলে। অবশ্যই সাইকেলে। শহরতলী তাদের হাতের পিঠের মতন চেনা। পাহাড় বাইবার রাস্তা। জঙ্গুলে পথ। হাইওয়ের এক্সিট। শেনানডোয়া নদী। সেই ছেলের একটি মেয়েকে ভারী পছন্দ। মেয়েটি খুব জানে সে কথা। প্রশ্রয় দেয়। চোরপুলিশ খেলা সবে শুরু হয়েছে।

মোটের উপর ছবির মতন সুন্দর নির্বিঘ্ন জীবন। কিন্তু তলে তলে দানা বাঁধছে ভীষণ ভয়ানক কিছু একটা। হয় একটা আগ্নেয়গিরি জাগব জাগব করছে। বা কোনও একটা বৃহত্তর চক্রান্তের ফুসকুড়ি স্বরূপ মেয়েটা গেল অপহৃত হয়ে। বা অভূতপূর্ব কিছু ঘটতে চলেছে সেখানে। ভিনগ্রহীর আগমন। অদ্ভুতদর্শী জীব। একে একে রাজ্যবাসী নিরুদ্দেশ। মোটকথা খুব গোলমেলে একটা কিছু। ছেলের দল ঝাঁপিয়ে পড়বে সে রহস্যের উদ্ঘাটনে। বিপদের অনুঘটকালিতে প্রেম জমে ক্ষীর। মেয়র, শেরিফ সুবুদ্ধি ও স্থিতধীর পরিচয় দিয়ে সঙ্কট সামলাবেন। অতঃপর রহস্য ফাঁস ও হ্যাপিলি এভার আফটার।

ফ্রন্ট রয়্যাল, বসতির নাম। শেনানডোয়া উপত্যকায়।

Advertisements