পৃথিবীটা মোটেই গোল নয়। তবে ঠিক ধারালো কোণাও নেই, কিন্তু চ্যাপ্টা তো বটেই। শেষ প্রান্তে পৌঁছলে ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নেমে যাওয়া যায়। পৃথিবীর ওই প্রান্তে কখনও যায়নি বিভু। গল্প শুনেছে শুধু। শুনে থেকে তার ইচ্ছে সেখানে যাবার, জায়গাটা চাক্ষুস করবার। দুধ সাদা জোড়া পাহাড় সেখানে নাকি, মধ্যিখানে অতল খাদ। সেখানে কেউ গেলে নাকি আর ফেরে না। বিভু ফিরতেও চায় না। সবই অবশ্য শোনা কথা। পৃথিবীর এপাশটাও খারাপ না। নরম মাটি। বিষুবরেখার কাছটা নীচু, মেরুর দিক দুটো উঁচু হয়ে আছে। ভালো খেলা পেয়েছে বিভু, হাতাপাই করে কোনো একটা দিকে ওঠে, ছেড়ে দেয় নিজেকে। গড়িয়ে নামে ঢাল বেয়ে। তখন ভূমিকম্প হয়। বিভুর হাসি পায়।

বিভু সেরকম ই গড়ানো খেলা খেলছিল ভরদুপুরে। পৃথিবী শান্ত হয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল। বিভুর বড় লোভ হল। ওই প্রান্তে যাওয়া দরকার। যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। বিভু সিংহদমন গাঁটুল সর্দার কে স্মরণ করে পশ্চিম ঢাল বেয়ে লাফ দিল। বিপজ্জনক। মৃত্যুর আশঙ্কা পদে পদে। রাস্তা চেনাও কঠিন। প্রবেশপথ খুঁজে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু বিভু ভাগ্যবান। আর বিভু অধ্যাবসায়ী। বেশ খানিক নাছোড়বান্দামির পর ধরণী কিঞ্চিৎ দ্বিধাসহ চিৎ হয়ে শুল। বিভুর বুক ধড়াস করে উঠল। সত্যি সত্যি সত্যি। যা শুনেছে সত্যি। ছায়াপথ সত্যি, দুধসাগর সত্যি, কিলিমাঞ্জারো সত্যি, কিষ্কিন্ধা সত্যি, সব সত্যি। চলচ্ছক্তিরহিত বিভু খানিকক্ষণ হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর সে জোড়া কৈলাস বাওয়ায় মন দিল।

Advertisements