সোয়েটারটার বগল ছিঁড়ে গেছে। হাতাতেও, খোঁচা লেগে, এত বেসামাল চলাফেরা। চুলগুলো কেয়ো কার্পিন এর বিজ্ঞাপনের ব্যবহার করে দেখবার আগের মত শুকনো ও রুক্ষ হয়ে রয়েছে। মশার কামড়ে ফুলে টোপলা জায়গাটায় চুলকালে সাদা দাগ কেটে যায়। তাতে চেসমী গ্লিসারিন এর থেকে কমলালেবুর খোসায় কাজ দেবে বেশি। যে জানে না, সে জানে না। কমলার খোসা শুকিয়ে যাবার আগে জোরসে চিপলে পুচুৎ করে একটু ফোয়ারা বেরোয়। হাতটা সুরভিত হয়ে থাকে অনেকক্ষণ। আর ত্বক মসৃণ। বা মোলায়েম। বা দু’টোই। শঙ্করকাকুর বেঞ্চির পেরেকটা পিছনে ফুটছে। সরে বসতে বলার মত যথেষ্ট জায়গা নেই। শঙ্করকাকু চাউ বানাচ্ছে। চাউটা সেদ্ধ করাই থাকে। আগে ডিম ভাজে, নামমাত্র গাজর আর পেঁয়াজকুচি দিয়ে। সেটাকে প্লেটে তুলে চাউ তুলবে প্রশান্ত সাগরের মত বিস্তারওলা কড়াতে। খুন্তি আর একটা রড দিয়ে নাড়বে। আজিনামোটো, লঙ্কা আর কি একটা ঝোল মত। তারপর ভাজা ডিমগুলো ছেড়ে দেবে ওর মধ্যে। গন্ধেই… কুড়ি টাকার নোটটা শক্ত করে মুঠোয় পাকায় ফটিক। কাগজের প্যাকেটে তোলবার সময় মনে হবে অতখানি চাউ আঁটল কী করে ওতে? একদুটো উৎসুক চাউ এর ডগা বেরিয়ে থাকবে। ফটাফট দু’টো গার্ডার লাগাবে শঙ্করকাকু, প্রায় সমকোণে। 
 
“তাই বলে শঙ্করকাকুর চাউ খাওয়াবি ফটিক?” 
সাইকেলের হ্যাণ্ডেলে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগে সাদা প্যাকেটে উল্কার টুকরো ঝুলছে, হাওয়া লাগছে মুখে। 
“তোমার কী? তুমি কাটো না!” 
পিছনের সিট থেকে কুখ্যাত হাড়জ্বালানো হাসিটা হাসে বাঞ্ছারাম।
 “আমার আর কী? তবে কিনা একটু চাং ওয়া নিয়ে গেলে টেলেও তো পারতিস। তোরই তো সুবিধে হত।” 
ফটিক মুখ ঝামটা দেয়, মুখ না ফিরিয়েই। “রোজ এইসময়টাই তোমার যত নকশা শুরু হয় শালা। আমাকে কি কিপ্টে ভাবো তুমি? আজ কোথাও যাওয়া যেত না। সময় নেই।” 
মুখ না ফিরিয়েই ফটিক বাঞ্ছারামের ক্ষয়াটে দাঁতগুলো দেখতে পায়। 
“বিরিজ পেরোলেই বেদুইন ছিল ফটিক। ফ-টিক। ফটুমাস্টার। খালটুকু টপকাতে পাল্লি না?” 
“ওরা রোলের মধ্যে আলুসেদ্ধ দেয়। আর চাঙওয়া গেলে তো সেই চাউ ই-” 
বাঞ্ছারামের অট্টহাসিটা বোধহয় বাপ্পাও শুনতে পেল। ভাগ্যি বাঞ্ছাকে দেখা যায় না। 
 
ছাদের উপর মাদুর। মাদুরের উপর প্লেট। প্লেটের উপর প্লেট। তারউপর একটা কাঁটাচামচ। আরেকটা পাওয়া যায়নি। ডবল প্লেটের পাশে ডবল চাউ এর প্যাকেট। প্যাকেট খুললেই চাউ এর ঢিবির উপর পেঁয়াজ, শশা আর টমেটো সস পাওয়া যাবে। চিলি টা দেওয়া বারণ ছিল। এ সমস্ত থেকে দূরে, পূবের পাঁচিলে “ছড়িয়েছি গতকাল, জানি” মুখ নিয়ে পাঁচিলে পিঠ ঠেকিয়ে ফটিক। আর পশ্চিমের ছাদ-দরজায় ছলছলে “আমার রাগ হলে আমি যা-তা বলে দি, ওসব ধরতে নেই” চোখ নিয়ে  ঘেঁটু। কমলালেবুর খোসার ফোয়ারায় স্নান করে আসা ঘেঁটু। সরলরেখার মধ্যিখানে মাদুর। 
 
“আমার খিদে পায়নি, আমি খে– চাআআআউউ?” 
 
শঙ্করদাকে একটা মানপত্র আর এক প্যাকেট সিগারেট কিনে দিতে হবে। আর বাঞ্ছারামকে কাঁচকলা। 
Advertisements