নীল রঙের পর্দা। পলিথিনের পর্দা। এপাশে অন্দরমহল। ওপাশে রেস্ট অফ দি ওয়ার্ল্ড। মাঝখানে নীল পলিথিনের পর্দা। 
 
চেনের গোড়ায় তেল দিতে হয়। দেওয়া হয়নি বহুকাল, বোঝাই যাচ্ছে। দাদরা মেনে ক্যাঁচ কিচ কিচ ক্যাঁচ কিচ কিচ করে যাচ্ছে সে চেন। বড্ড শিস পায় এই সময়গুলোয়। বিশেষতঃ যখন কথা বন্ধ। ক্যাঁচ কিচ কিচ। ভালোবেসে সখী ধা ধি না না তি না তুমি কেশেছ কি?  ক্যাঁচ কিচ কিচ ক্যাঁচ কিচ কিচ। কাশি হয়না। ভুবনবিদীর্ণ একটা হাঁচি হয়। তারপর নিঃশ্বাসের সঙ্গে একাত্ম হয়ে বেড়িয়ে আসা একটা “অসহ্য!”  খাঁচার এপাশের শিকগুলো বিঁধছে। বড্ড জায়গা নিয়ে বসেছে ও। সিংহীভাগ। প্রায় অশ্রুত “সরি”র পর শিস চলতে থাকে। দাদরা চলতে থাকে। রিকশা চলতে থাকে। বৃষ্টি চলতে থাকে।
অথচ অম্বুজা সিমেন্টের থেকেও নিরেট সে পর্দা।  কিন্তু সম্ভাবনাগুলো মাঠে প্রাণ হারাচ্ছে। কেবল একটা ঘ্যানঘেনে উশখুস। ষোল টাকা উশুল হল না, হল না। খাঁচাযাপন মুলতুবী। নীল পর্দার আড়াল রিকশাটাকে পাল্কি করে তুলেছিল রে। হুম হু না। ক্যাঁচ কিচ কিচ। চকরাবকরা রঙিন কাগজে মোড়া রথ হলেই হত তাহলে। বিশ্বের লোক দেখতে দেখতে যেত। দু’টো নকুলদানা ফাউ পেত বরং। জানি তুমি অনন্য ক্যাঁচ কিচ কিচ আর কি এ সওয়া যায়?
একটা বিপ্লবের চেষ্টা হয়। ঘুরে দাঁড়ানোর। আসলে ঘুরে বসার। ওর দিকে। প্রশাসন দক্ষভাবে সে প্রয়াস দমন করেন। পরিস্থিতি আয়ত্তে। ওর আয়ত্তে। পরিমিত যুদ্ধজয়ের হাসি। ক্যাবলার অপ্রতিভ খাঁচার বাইরে তাকানো। বারো টাকার পথ পেরিয়ে গেছে। এখন নেমে পড়লে লস। আর ছাতাও নেই। নইলে এক্ষুণি নেমে পড়ত। নেমেই পড়ত। নেমে পড়াই উচিৎ। নেমেসিসের সাথে পর্দাবন্দী রিকশা সফর নামুমকিন।
ব্রিজের ঢাল, বাম্পার, কেবলের লাইনের খন্দ বাঁচিয়ে নীরবে শেষ চারটাকা অতিবাহিত হয়। শশীকান্তর বড় শখ রিকশায় একটা মিটার লাগাবে। আর একটা জয় জগদীশ হরে হর্ন। ভ্যাঁপুটা বড় সেকেলে। আর পর্দাপ্রথা ঘুচিয়ে দিয়ে আর সবার মত সামনে রড লাগিয়ে একটা ছাদ বানাবে। নইলে তাকে ভিজতে হয়। প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগের শিরস্ত্রাণ খুলে পবন সারথি অপেক্ষা করে তার সওয়ারিদের নেমে আসার। কেউ আসে না। একটা সলজ্জ মুখ উঁকি দিয়ে বলে “এক মিনিট।” ভিতর থেকে আওয়াজ আসে। “মিটার চালু রাখো।”
Advertisements