ফটিকের সেবার এখন তখন অবস্থা। চোখে সাড় নেই, মুখে কথা নেই। বিছানা যেন কাউচ। সিলিংএর পাখাখানা যেন স্থবির। ফটিক নড়ে না, চড়ে না, বিকেল হলে পলক তাহার পড়ে না। কত দেশ বিদেশের ডাক্তার বদ্যি তাকে দেখলে, কত শক্ত শক্ত নাম আউড়ালে। কেউ বললে এ রোগ মনের, কেউ বললে পেটের, কেউ বললে প্লেটলেটের। শুনে সবাই বললে, তা প্লেট আসতে লেট করছে বইকি। তা প্লেট এলো শেষ পর্যন্ত, তাতে দেশ বিদেশের পদ, তবু ফটিক মাথা তোলে না, মুখ খোলে না, প্রাণে তাহার সুর দোলে না।

একদিন সে খবর পৌঁছল ফেলু ময়রার কাছে। ভোটগণনার খবর ছাপা ঠোঙায় মোচার চপ আর ফুলকপির শিঙাড়া নিয়ে সে হাজির হল ফটিকের সামনে। দেড় বছরের ঘুম ভেঙে ফটিক সোজা হয় বসলে। প্রথম কামড়ে তার জিভ পুড়ল, রাজ্যবাসীর চোখে জল। বিটনুন পড়ল চপে, টানটান উত্তেজনায় সকলের শিরদাঁড়া ঋজু। খালি ঠোঙা পাকিয়ে ময়লার বালতিতে ফেলে ফটিক ঢকঢক করে ফ্রিজ থেকে বার করা ঠাণ্ডা জল খেলে, নখ চিবোতে লাগল আপামর জনগণ।

ফটিক একটা অম্বলের ঢেঁকুর তুললে।

গোটা স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ল।

Advertisements