আমারই চেতনার রঙে শহর হল নীল-সাদা, আর তেলেভাজা উঠল বেগুনি হয়ে…

বাচ্চু নস্কর পান মশলার প্যাকেটটা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে মুখে চালান করে দিল। মুরগী আসছে। ছেলেবেলায় একটা কথা শুনেছিল বাচ্চু। বোঝার উপর শাকের আঁটি। এই ছেলেটাকে দেখলে তাই মনে হয়, ব্যাগগুলোকে যেভাবে কাঁধে চাপিয়ে হাঁটছে, একটা আধুলি ওর উপর চাপলে ধ্বসে পড়বে। রেলিং এর হেলান ছেড়ে উঠতে হল বাচ্চু কে। “ট্যাস্কি চাহিয়ে? ইউ ওয়ান্ট ট্যাস্কি?” ফটিক ভুরু কুঁচকে বলল “ট্যাক্সি। না লাগবে না।”

ফটিক কে বেশ ভয় দেখিয়েছিল লোকজন। শতাব্দীর উষ্ণতম গ্রীষ্ম যাচ্ছে এবার, যমের কড়াইতে সুস্বাগতম। জল খেলেই ডাইরিয়া, ফটিক, তোমার তো অভ্যেস নেই… ফটিক হলুদ পেরিয়ে কিছু খুঁজছে। ফটিক সমুদ্র পেরিয়ে কাউকে খুঁজছে। বাহারি ঘড়ি, শহর চিনে সময় বুঝে নেয়। ঘড়ি বলছে, সময় হয়েছে। ফটিকের কান জেগে ওঠে, ফটিকের নাক ঘুম ভাঙে। ফটিক আসীন ছাইরঙা উর্দি কে হাত দেখিয়ে বলে “বলছি তো ট্যাক্সি নেহি মাংতা। জরুরত হোগা তো বুলা লেগা।”

১৪ নম্বর কনভেয়ার বেল্টে এক এক করে বাক্স প্যাঁটরা এসে পৌঁছেছিল ফটিকের। রুকস্যাকে রেস্তোরার ঠিকানা, স্যুটকেসে ময়দানের ছবি আর বুকপকেটে “মোট্টেই দেরি করব না।” বাহারি ঘড়ি বলছে তাপমাত্রা সাঁইত্রিশ, ছোট্ট করে বৃষ্টিও নেমে যেতে পারে যখন তখন, কে জানে! এ শহর অবাধ্য, আবহাওয়া দপ্তর কে লবডঙ্কা দেখানোয় ওস্তাদ। বাহারি ঘড়ি বলছে ছাব্বিশ মিনিট লেট। বাহারি ঘড়ি বলছে দক্ষিণে দু’এক পশলা হয়েও গেছে, আনোয়ার শাহতে গোড়ালি জল, বাইপাসে হেব্বি জ্যাম ভাই। বাহারি ঘড়ি বলছে কিস্যু চেনেনা। বলছে ছ’টায় বেরিয়েছি, এই ছুঁয়ে বলছি, মা কালীর দিব্যি। বাহারি ঘড়ি চুপ, তার খেল খতম।

বাচ্চু নস্কর পিকটা ফেলতে গিয়েও সামলে নিয়ে বলল “তাহলে দাদা মালটা তুলি?” ফটিক বলল “আরসালানে কি এখন খুব ভিড় হবে?”

Advertisements