ড্রয়িংরুমের দরজা খুলে বাইরে পা দিতে গিয়েই তলিয়ে যাচ্ছিলাম। বাইরে শুন্য। মহাশুন্য। ঠিক দরজার বাইরে। চৌকাঠ পেরোলেই। অসীম শুন্য। হেহে। অসীম আবার শুন্য। অক্সিমোরনের বাংলা যেন কী?

না, সত্যি। বাড়িয়ে বলছি না। বাইরে সত্যিই আর কিছু নেই। কেবল ড্রয়িংরুমটা ভেসে আছে সেই শুন্যের মধ্যে। অবাক আমারও লাগত, কিন্তু আজকাল অবাক হওয়ার ক্ষমতাটা হারিয়েছি। ভেবে দেখলে অবাক হবার মধ্যে একটা অপাপবিদ্ধতা আছে। যাকগে, বাইরে আর কিছুর অস্তিত্ব নেই, যেটুকু অবশিষ্ট সব আমার ড্রয়িংরুমের ভিতর। প্রশ্নাতীত ভাবে সকলকিছু মেনে নিতে শিখেছি বহুদিন হল। তাই দরজা বন্ধ করে ঘরমুখো হলাম। ওমা! ঘরের মধ্যে দেখি ঘোড়া!

মাইরি বলছি। একটা ঘোড়া। হাড়জিরজিরে, পাঁজর গোনা যায়। গুনে দেখলামও। হিসেব অনুযায়ী অবাকের সাথে মায়াও হবার কথা। উঁহু, সে চিজ ও লোপাট। অনুভূতি নামে কি একটা জিনিস হত না? সেটা ডোডো পাখির মত গুছিয়ে অবলুপ্তি পেয়েছে। ঘোড়াটা ধুঁকছিল। কার ঘোড়া কে জানে… ওমা, গলায় একটা নেমট্যাগ আবার! মহীন। মহীন টা কে? যাকগে… দুশ্চিন্তা একটা হাল্কা হচ্ছিল ব্যাপার স্যাপার দেখে, কিন্তু সোফায় গা এলিয়ে ল্যাপটপ কোলে তুলে দেখলাম ওয়াইফাই আছে। আছে! হেহে! অ্যাপোক্যালিপ্স হয়নিকো, পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে আসেনি, কেবল সংকুচিত হয়ে আমার ড্রয়িংরুমের আয়তনে এসে ঠেকেছে!

Advertisements