এরকম হয়। ঘেঁটু জানে এরকম হয়। কতবার হতে দেখেছে। টিভিতে, সিনেমায়। না, টিভি সে মোটে দ্যাখে না। ওই মা বা ঠানু যখন চালায়, একটু আধটু চোখ চলে যায়। ওই একটু আধটুই। সিরিয়ালের গানগুলো বারবার বাজতে থাকে না? ওই জন্য মুখস্থ। আর ওই চরিত্রের নামধামগুলো। আর ওই কার কার ক’বার করে বিয়ে হয়েছে সেটা। ইচ্ছাকৃত নয়। মাইরি।

কিন্তু সেখানে ঘেঁটু দেখেছে। সিনেমাতেও দেখেছে। পুরোনো অকাজের বই বা খাতা ঝাড়তে ঝাড়তে একটা আদ্যিকালের ছবি বেরিয়ে পড়ে। সেটা দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ে নায়িকা, বা নায়ক। আর বেশ একটা স্মৃতিমেদুর আবেশ এসে যায়। ছবিতে একটা সাদা কালো বা সেপিয়া টোন এসে যায়। আহা। চোখের কোণায় একটা বিন্দু এসে পড়ব পড়ব করেও পড়েনা, যতক্ষণ না ক্যামেরা তাতে ফোকাস করছে। কিন্তু এই মরূভূমিশ্চ গরমে দোতলার ঘরে নোটসের তাল (যেগুলো থেকে একটা প্রশ্নও আসেনি পরীক্ষায়) বিদায় করতে গিয়ে ছবিটা বেরোল, এবং সেটা দেখে যে বেশ ক’ফোটা জল ও বেরোল চোখ থেকে, সেটা তোলবার জন্য কোনও ক্যামেরা ছিল না।

ছবিটা প্রিন্ট নয়। শেষ কবে কেউ ছবি দোকানে নিয়ে গিয়ে কোনও ছবি প্রিন্ট করিয়ে এনেছিল সে জানেনা। এ ছবিটা আঁকা। উল্টোদিকে কী এক দুর্বোধ্য ভাষায় একটা প্রশ্নপত্র। আর পিছনে তার মুখ। ফ্যাক করে একবার হেসেও উঠল ঘেঁটু। একটু ট্যারা হয়েছে চোখদুটো। গাল দুটো মোটেই অত ফোলা নয় তার। অনভ্যস্ত হাতের আঁকা। ভোঁতা পেন্সিলে। কোশ্চেন পেপারের পিছনে। আর পারা যায়? শুধু টিপটা গুছিয়ে গোল করা। প্রায় স্কেল দিয়ে মেপে দুই ভুরুর ঠিক মাঝখানটায়। ঘেঁটু চিনতে পারে। চিনতে পারে এটা কোন ছবিটা দেখে আঁকা।

সে ছবি তে সে একা ছিল না।
Advertisements