হাইওয়ে ধরে ছুটছে জোরে হাতঘড়িটার কাঁটা,
তার পিছনে, কি আনমনে, তোমার আমার হাঁটা…
সরলরেখা বিন্দু হল,
বৃত্ত থেকে সিন্ধু হল,
তবুও বাকি, খুলতে থাকি পরের দরজাটা…

কলমটার কালি ফুরিয়ে এসছে। পাতাও বুঝি আর বাকি নেই বেশি। লন্ঠন টা টিমটিম করছে। তার আবছা আলোয় ক্যালেন্ডারটা বিদঘুটে লাগছে! দোয়াত থেকে কয়েক ফোঁটা কালি চলকে পড়ে পাতাটার উত্তর পশ্চিম কোণে নকশা তৈরী করেছে একটা, সেটা যে কেন এত চেনা ঠেকছে, উদ্ধার করতে পারছি না। আর কথাগুলোও কেমন এলোমেলো হয়ে মার্জিনকে মরজি মত বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে!

আজ আকাশটা বেশ পরিষ্কার। তারাগুলোকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। হতভাগাগুলো কুমির ডাঙা খেলছে, আর গোমরা মুখো ধ্রুবতারাটা একটা হাইপারবোলা’র সীমানা জুড়ে পায়চারি করছে। আজ সব আপেক্ষিক! উত্তরের জানালাটা দিয়ে দক্ষিণি হাওয়া টা চুপিসারে অনুপ্রবেশ করল, ভাবল টের পাবো না! চালাকি! আমারও বলিহারি যাই, লেখাটা না লিখে কেবল অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছি! নির্লজ্জ পেঁচাটা চোখ মারল কেমন! রাস্তার ওপাশের ফ্ল্যাট টায় আলো না নিভিয়েই এক দম্পতি ভালোবাসাবাসি খেলছে! উত্তুরে হাওয়াটা মাগনায় সেই মজা লুটছে! লন্ঠনটা লজ্জা পেলো, নিভতে বসেছিল, আমি খবরের কাগজ টা দিয়ে আড়াল করলুম। ওদিকে সপ্তর্ষির তৃতীয় মক্কেল এর সাথে ঝগড়া বেঁধেছে কালপুরুষের মেজো মক্কেলের। হাল ছেড়ে দিলুম। শালখানা গায়ে জড়িয়ে দাঁড়ালুম গিয়ে বারান্দায়। রাজধানীর খবর পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ল লন্ঠন টা। বাতাস টা সেঁধিয়েছে আমার লেপের তলায়। ল্যাম্পপোস্টটা ঢুলছে, আর তার তলায় বসে উস্কোখুস্কো কবিটা গাঁজা খাচ্ছে কল্কে থেকে, ভাগ বসাচ্ছে আমার নাক! প্রবল শব্দে বারোটা বাজল কোথাও। আমি একটা হাই তুললুম। বড় ঘুম পাচ্ছে!

Advertisements