পরীক্ষা চলছে…

বিরক্ত করা মানা। ঘেঁটু এক পাশে কাত হয়ে শুয়ে বই খাতা পেন পেন্সিল ক্যাল্কুলেটর ছড়িয়ে পড়ছে। ঘাড়, মাথা আর বাঁ হাত মিলিয়ে একটা ত্রিভুজ তৈরী হয়েছে। কাঁধ থেকে কনুই, কনুই থেকে কব্জি, আর মুণ্ডুটা তৃতীয় বাহু। বড্ড অসমান লাগে। উপুর হয়ে পড়তে পারে, খাটের উপর কনুই, দুই কব্জি জড়ো করে তার উপরে থুতনি। পড়তেই পারে। হাঁটু থেকে পা দুটো ভাঁজ করে উপরে হাওয়ায় দুলবে। এক পায়ের নূপুরটা হারিয়েছে? নাকি এটাই কায়দা? পড়তেই পারে উপুর হয়ে শুয়ে। ক্ষতি কী? কিন্তু না…

ফুল ফুল ছাপ সাদা ফ্রকটা হাঁটুর দু ইঞ্চি উপরে উঠে এসেছে। তার হেমের কাছে একটা মশা ঠায় বসে আছে। ভ্রূক্ষেপ অবধি নেই! অতিষ্ঠ হয়ে নিজের হাঁটুই খানিক চুলকে নিল ফটিক। বিরক্ত করা মানা। নীল পেনের ঢাকনাটা মুরগীর কচকচির মত চিবোচ্ছে, দাঁতের নকশা সেটার গায়ে। সবকটা পেনের এই দশা, আর পেন্সিলের পিছনগুলোর। ওকে ধার দেওয়া যায় না, দিলে ফেরত নেওয়া যায় না। ইরেজারটা শত টুকরো। ঘেঁটু পক্ষপাতদুষ্ট।

চিৎ হয়ে শুয়েও পড়া যায়। পাশবালিশে মাথা রেখে বইটা হাতে নিয়ে বুকের উপর কনুই ঠেস দিয়ে পড়াই যায়। ঢুলে পড়লে বইটার নাক বরাবর নেমে আসার সম্ভাবনা, কিন্তু তা বাদ দিলে মন্দ কিছু নয় তো! উঁহু। ওর কাত হয়েই পড়া চাই। ফটিকের দিকে মুখ করে।

মশাটা টোপলা হয়ে ফুলে আছে, নড়তে পারছে না রক্ত খেয়ে। হেমটা আর দু ইঞ্চি উঠে এসেছে না? ছি ছি ফটিক! চোখ সরাও! এক্ষুণি! ঘেঁটু ইরেজার হারিয়ে ফেলেছে। মাধ্যাকর্ষণ বড় বাজে জিনিস। ফটিক জানে টুকরোটা কোথায় চাপা পড়ে রয়েছে, ফটিক দেখেছে। তার কান কিঞ্চিৎ লাল হয়েছে। তার রক্তে ঈষৎ চাপ। ঘেঁটু বড্ড আলসে। উঠে বসে পড়তেও ওর গায়ে জ্বর আসে। গজগজ করতে থেকে ঘেঁটু। “অ্যাই ফটকে! কোথায় রাখলাম রে ইরেজারটা?” খুঁজবেও না নিজে।

খানিক পরে নিজেই বুকের তলা থেকে সাদা টুকরোটা বের করে ঘেঁটু। ফটিকের চোখের দিকে তাকায়। দু’টো অনন্ত সেকেণ্ডের পর দুজনেই নিজ নিজ নোটসের খাতায় চোখ নামিয়ে নেয়।

পরীক্ষা চলছে।

Advertisements