“You have lost your muchness.” লুসির কানে একপদী খেয়ালের মত বাজছে কথাগুলো। পাগলা টুপিওলা বলেছিল অ্যালিসকে, “You have lost your muchness.” অ্যালিসের মত পাতালে নামতে হয়নি লুসিকে। লুসি এখন আকাশে।

লুসি এখন আকাশে। ভাসছে। আপাতত মেঘহীন নীচেটা। নাকবরাবর সিধে নীচে নামলে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ার সম্ভবনা, তবে কিনা গোলাটা বনবন করে ঘুরছে। লুসি ভাবতে বসে। কোনও সাদা খরগোশের পিছু সে আকাশে এসে পৌঁছয়নি। না, কোনও পাখিও নয়। অ্যালিসের মত লুসিও এটা স্বপ্ন ভেবে খারিজ করে দিচ্ছিল, তবে কিনা বড্ড সত্যি সত্যি ঠেকছে ব্যাপারটা। প্রথম প্রশ্ন, এখানে এলো টা কী করে?

“জীবনটা রূপক হে,গোটা দুনিয়াটাই রূপক।” আশ্চর্য! এখন এই ঝুলন্ত পরিস্থিতিটা একটা জ্ঞান দেবার সময়? লুসির সেই ছেলেটার কথা মনে পড়ে, সে এখন অনেক নীচে, পৃথিবীতে, তারও ভারী জ্ঞান দেওয়া স্বভাব। আরও আশ্চর্য, এই গলাটাও অনেকটা তার মতই শোনাচ্ছে না? “এই যে তুমি আকাশে, এটা একটা রূপক। কী করে এলে, জানতে চেয়ো না। মনে কর হিন্দি সিনেমা দেখছ। এসে পড়েছ, এটা মেনে নাও, এবার ভাবো, কেন এসেছ?” মুখে কাঁচা খিস্তি এসে যাচ্ছিল লুসির, কিন্তু সেটা উচ্চারণ করা থেকে নিজেকে সংযত করল সে। নীচে যেতে হলে একে চটালে চলবে না। “কেন এসেছ? পারপাস। পারপাসটা কী?” জ্যাবারওয়াকি নিধন করেছিল অ্যালিস, তাকেও মহিষাসুরবধ করতে হবে নাকি? ওরেবাবা! ভুরু কুঁচকায় লুসি, তখনই কানে আসে বাক্যটা। “You have lost your muchness.”

অথচ একটু আগেও চিৎ হয়ে শুয়ে সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছিল লুসি। ধোঁয়াটা কুন্ডলী পাকিয়ে উঠে যাচ্ছিল পাখা লক্ষ্য করে। পাখাটা কেমন চাঁদের বুড়ির চরকার মতন। ছাই ছড়িয়ে পড়ছিল ঘরময়। ধোঁয়ার মধ্যে বিচিত্র নকশা খুঁজছিল লুসি, নাকি নক্ষত্রপুঞ্জ? কে জানে… আঙুল বাড়িয়ে উত্তর ফাল্গুনী ছুঁতে চেয়েছিল সে। খেয়াল পড়ে লুসির, চারদিকে তাকিয়ে দেখে। হু, সিংহের মুখেই বটে। দূরে দূরে বিশাখা, কৃত্তিকা, স্বাতী, অশ্বিনী… “ভাবো লুসি, ভাবো।” জ্ঞানদা আপদটাও ছিল না ঘরে? ছিল। কাঁচের গেলাসে সবুজ তরল ছিল। সে গেলাসের উপর চামচ ছিল। সে চামচে চৌকো চিনির টুকরো ছিল। তাতে আগুন ধরিয়েছিল জ্ঞানদা। তারপর নিক্তি মেপে জল ঢেলেছিল গেলাস, পোড়া চিনি ধুইয়ে সে জল চুঁইয়ে মিশেছিল সেই সবুজ তরলে। গতর না তুলেই হাত বাড়িয়ে গরম গেলাস তুলে নিয়েছিল লুসি, এক ঢোঁকে চালান করেছিল গলায়! আহ! বোঝা গেছে! সেইটেই পাসপোর্ট, সেই জাদু পোশন! নিজের হাত পা মেপে দেখল লুসি। কই, ছোট বড় হয়নি তো! যেমন কে তেমন! “রূপক। রূপক!” লুসির চোখের মণি তার বিরক্তি ধরিয়ে দেয়। “কোথায় আছো লুসি?” উত্তরটা আকাশ হলে প্রশ্নটা আসত না। “সপ্তম স্বর্গে। সেভেন ডাইমেনশনস, সাত মাত্রা এখানে। রূপক।” তা ভেবে দেখতে গেলে বড্ড শান্তি এখানে, লুসি ভাবে, নিজের ওজনটাও তেমন টের পাওয়া যাচ্ছে না, কত সহজে হাত পা চলছে… “কাদের সাথে রয়েছ, লুসি?” অনেক ভেবেও তারা ছাড়া আর কিছু লুসির মাথায় আসে না। “হু। তারা। লাইক এ ডায়মন্ড ইন দি স্কাই। তারার মধ্যে রয়েছ লুসি, হীরের টুকরো হয়ে। You have to be muchier. আলো দেখাও। দিশা দেখাও।”

জানালার কাঁচে নিশ্বাসে বাষ্প জমে। তাতে আঙুল দিয়ে নিজের নাম লেখে লুসি। লুসি, যার চোখে ছায়াপথের সমস্ত রঙ খেলতে থাকে…

________________________________________________

ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

 

Advertisements