ময়ূরাক্ষী পৃথিবীর প্রথমতম নারী। ময়ূরাক্ষী পৃথিবীর শেষতম নারী। ময়ূরাক্ষী পৃথিবীর একমাত্র নারী।

দেওয়ালের চতুর্ভুজ আকারটা জানালা, না আয়না সেটা বোঝা যাচ্ছে না। একজন বলছে সেটা জানালা। তার চোখে সুরমা, তার কানের পাশে চুল নেই বললেই চলে, তার দাড়ি কিছু বিপজ্জনক কোণে বাঁক নিয়েছে। সে আঙুল দেখাচ্ছে মুহুর্মুহ বজ্রপাতের দিকে। সেই আলোয় পত্রহীন গাছগুলোর সিল্যুয়েটের দিকে। সিল্যুয়েটের বাংলা কি অবয়ব? আলোচনা টা সেই দিকে বাঁক নিচ্ছিল, কিন্তু চশমাওলা বলে উঠল, না, ওটা আয়না। তার চশমাটা বাঁ দিকে বেঁকা, পক্ষপাতদুষ্ট। তার অবিন্যস্ত চুল, তার শ্যামবাবুদের গয়লার মত গোঁফ, তার অপূর্ব’র মত দীর্ঘশ্বাস। সে বললে “প্রতিফলন কেবল আয়নাতেই হয়, বাঞ্ছারাম, কিংবা, যাতে প্রতিফলন হয়, সে ই আয়না। ওই চতুর্ভুজে আমি আমাকে দেখতে পাচ্ছি, আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি, আমি চুল্লীর আগুন দেখতে পাচ্ছি জনাব, অতএব ওটা আয়না।”

ময়ূরাক্ষী কেবল বুদ্বুদ দেখতে পাচ্ছে। খয়েরি কিংবা সবুজ বোতলটায় যেটুকু তরল বেঁচে, তার গোড়া থেকে আগা বুদ্বুদের আনাগোনা। সে কাঠের মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে, চুল্লীর দিকে মাথা করে, তার পায়ের কাছে চতুর্ভুজ। চতুর্ভুজ। চারটি বাহু যার। বহুব্রীহি সমাস। চারটে বাহু। দুটো চশমাওলার, দুটো সুরমাওলার। ময়ূরাক্ষী জোড়া হাতের উপর থুৎনি রেখে ঢেকুর তুলল। ময়ূরাক্ষীর ময়ূরকন্ঠী শাড়ি, ময়ূরাক্ষীর মেঝেময় আঁচল, ময়ূরাক্ষীর এক পায়ে নূপুর, অন্য পায়ে ভয়ঙ্কর এক উল্কি, সেটা চুল্লীর আলোয় উদ্ভাসিত, কারণ ময়ূরকন্ঠী উঠে এসেছে হাঁটুর উপর। ময়ূরাক্ষীর বক্ষবাসের রঙ জানার উপায় নেই, সেটা চুল্লীতে। ময়ূরাক্ষী বুদ্বুদ দেখছে।

চশমাওলা প্রতিফলন দেখছে।

সুরমাওলা বজ্রপাত দেখছে।

আর ময়ূরাক্ষী দেখছে বুদ্বুদ।

ময়ূরাক্ষী পৃথিবীর একমাত্র নারী।

Advertisements