– ইচ্ছে করে সব সিগনাল গুলো খাচ্ছে!

আচমকা গজগজানি তে হাল্কা তন্দ্রাটা ছুটে গেল ফটিকের। আবছা কোলাহল অনেকক্ষণ ধরেই কানে আসছিল, কিন্তু কানটা কেমন বন্ধ হয়ে থাকায় বিশেষ পীড়া দেয়নি। এখন কানের কাছেই দাঁত কিড়মিড়ানি শুনে ফটিক টের পেল কানটা ছেড়েছে। জানালা দিয়ে খুব কিছু বোঝা যাচ্ছে না, থেমে রয়েছে বলেই মনে হয় গাড়িটা।

– সব ওই লোক তোলার চক্কর, বুঝিনা কিছু?

টুকরো শব্দ উড়ে আসে। এই জানালাগুলো বেজায় অপছন্দ ফটিকের। বড্ড ছোট, তায় কাঁচ দেওয়া। ধুৎ। গাড়ি চললে যে একটু ফুরফুরে হাওয়া খাবে…

– আরে ও ভাই, পাশের গুলো তো টেনে বেরিয়ে যাচ্ছে! পৌঁছনর ইচ্ছে টিচ্ছে আছে?

বাস্তবিক ই আরেকটা লুফতহানসার বোয়িং বোঁ করে রানওয়ে ছেড়ে ফুরুৎ হয়ে গেল। ফটিক হাতের ঘড়িটা দেখে। সোয়া সাত। সেটা মার্কিন সময় নাকি ভারতীয় সেটার হিসেব কষে। মনে করে সময় বদলে নিয়েছিল কি? নাকি এ ঘড়ি যস্মিন দেশে যদাকাল, আবু ধাবির দিকে কাঁটা করে? পাশের বিশালাকায় মহিলা তিতিবিরক্ত হয়ে বোধহয় খোঁজ নিতে গেলেন। ফটিক পা তুলে বাবু হয়ে বসল। ছোট্ট লাল স্কার্ট পরা এয়ার হোস্টেস “আদাম আদাম বাআআআদাআআম” বলে চীনেবাদামের প্যাকেট নিয়ে এদিকপানেই আসছে। ফটিক খুচরোর জন্য পকেট হাতড়ায়।

– আজ্ঞে চোদ্দ ডলার!

ফটিক আঁতকে ওঠে। ব্যাজার মুখে কুড়ির নোট এগিয়ে দেয়। আজ সব দিক থেকে ইয়ে মারা যাচ্ছে। গোঁত্তা মেরে নড়ে ওঠে প্লেনটা। ধুঁকে ধুঁকে রানওয়ে দিয়ে এগোয়, এই গতি তে টেক অফ হয়? অসহ্য! মোটকা মহিলা ফিরে এসে নিজেকে একরকম চাপিয়ে দেন। ফটিক কুণ্ডলী পাকিয়ে নেয়। ক্ষুদ্র জানালা দিয়ে দেখতে পায় ফ্লাই এমিরেটস এর এয়ারবাসটা টপকে গেল।

– শালার জাত, গরুর গাড়ি চালাচ্ছ?

ককপিট থেকে কোপাইলট তেড়ে আসে।

– মুখ সামলে দাদা। বেশি তাড়া থাকলে প্রাইভেট জেট নেবেন কাল থেকে।

প্রায় বেঁধে যাওয়া হাতাহাতিটা থেমে যায়। আমিরশাহি, সৌদির আকাশ পেরিয়ে এসেছে, এয়ার হোস্টেস স্কচ হাতে হাজির। বিবাদ থামবে বইকি। ফটিকের কানে ফের তালা লাগে। বহুক্ষণ সব চুপচাপ।

ক্যাপ্টেনের চিবিয়ে চিবিয়ে বলা শব্দে ফের তন্দ্রা ছোটে ফটিকের।

– যাত্রীগণ কৃপয়া ধ্যান দে। আবির্ভাবের সময় আটটা বেজে ছয় মিনিট। আকাশ পরিষ্কার। বাঁ দিকে তাকালে দেখতে পাবেন আরব সাগর, ডান দিকে চণ্ডী ঘোষ লেন। সিট বেল্ট টা দয়া করে পড়ে নিন।

ফটিক মুচকি হেসে আড়মোড়া ভাঙে।

Advertisements