“বরফি খাবো”

নাকে ভাকরা নাঙ্গাল উপচে পড়া সর্দি। নিঃশ্বাস নিলে মনে হয় ডায়নামো চলছে ভিতরে। কাশির আবার নানা রকমফের, এক বদরাগী রাজ্যের অবলুপ্ত ভাষার মত শোনায় সেটা। ম গুলো প এর ছদ্মবেশে প্রকাশ পায়, চন্দ্রবিন্দুর চন্দ্রবিন্দু প্রাপ্তি ঘটে।

“না, আজ বিয়েবাড়ি আছে না? আইসক্রিম খাবো”

মাফলার সে জড়াবে না, “শীত টা কোথায় পড়েছে?” ভ্যাকুয়াম ক্লীনার এর মত নাক টানে, মা এর আঁচল খোঁজে মুছবার জন্য! কোন টিপ টা যুতসই ভেবে না পেয়ে দুটোই পড়ে ফেলে। এক হাতে জলের গেলাস আর অন্য হাতে ওষুধের ঝুড়ি নিয়ে মা অপেক্ষা করেন। গজগজ করতে করতে গলায় ঢালে, “গলাটা সরু হয়ে গেছে আমার, ঢোকেই না ওষুধ গুলো।”

একটা মধ্যযুগীয় নাইটদের কব্জিবন্ধ কে দিয়েছে ওকে, (নির্ঘাৎ ওই সিরিঙ্গে ভূত টা) ওই টা চাপিয়েছে, বেগম আখতারি খোনা গলায় মা কে শুধিয়েছে, “বিয়ে টা কার, মা?” মহা সিন্ধুর ওপার থেকে আবছা উত্তর আসে, নাকি সর্দি হলে কানও ইস্তফা দেয় কাজে? যাই হোক, ভালো খাওয়ালেই হল। “গিফট কি নিলে শুনি?”

ডিসেম্বর কে গালি দ্যায়, মিলিটারি বাবার নাক উঁচু মেয়ের প্রেমের মত শীত পড়েছে এবার, এতে মন ভরে না। আগের বছর ঘর পালানো হিন্দি সিনেমার জুড়ির মত দামাল পৌষ ছিল। আগের পৌষে তখনো শয়তান টা ঘর পালায়নি। ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ ভাঙ্গে, মা রুমাল এগিয়ে দ্যায়, ভাগ্যিস সর্দি টা হয়েছিল…

Advertisements