তোকে আজ ওর গল্প বলব। ওই যে ও, আকাশলীনা হয়ে থাকে। ও ছাদের উপরে থাকে, থাকে সিঁড়ির ঘরেও। থাকে আমার চাদরের তলায়, বুক পকেটে, বুকে…

প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, বারান্দা থেকে এক মুখ হাসি নিয়ে আমায় দেখছে! বলে আমার হাঁটা নাকি মেয়েদের মত। কখনো খিলখিল করে হাসে, কখনো ঠোঁট টিপে। আর কান্না পেলে চুপ করে যায়। চোখের পাতা ভারী হয়ে বিন্দু বিন্দু তরল কষ্ট গাল বেয়ে নামে। ও কাঁদতে কাঁদতে ও হাসে, জানিস, এমনি বোকা!  সিগারেট খেয়ে গলগল করে ধোঁয়া ছাড়তে পারে, সেই গন্ধ মুখে নিয়ে আমায় চুমু খায়, আমাকেই গ্রাস করে ও।

একদিন ওর বাড়ি গেছিলুম। ওর বাবা বাইরে বসে সরকার বাহাদুরের নিন্দে মন্দ করছিলেন, ওর মা করছিলেন অভিযোগ। মেয়ের আমার পড়াশোনায় মন নেই, একটু বোঝাও। তোমার কথা শোনে… পোড়া কপাল আমার, ওর সামনে বোবা হয়ে যাই যে… আবোল তাবোল বকতে বকতে যেই ওর দিকে চোখ পড়ে, দেখি ও নির্নিমেষে তাকিয়ে আছে একটা অবাক হওয়া দৃষ্টি নিয়ে, কি বলছিলাম তত্ত্ব কথা হিসেব নিকেশ সমস্ত ভুলে যাই, মনে হয় ওর চোখের পাতায় আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াই। আচ্ছা, চুমু খাবার এত কম সমার্থক শব্দ কেন? কম পড়ে যায়…

সেদিন দেখেছিলাম ওকে। চান ঘর থেকে ভিজে চুলে বেরিয়ে এক্কা দোক্কা খেলছিল আমার নজর নিয়ে। একটা আলগা জামা, খোলা পা দুটো, ও কি জানতো না, যে আমি পুড়ছি?  কোথায় জানি যাবার কথা ছিল। ট্যাক্সিতে বসল আমার কোল ঘেঁষে… হুড়মুড়িয়ে কত গুলো গন্ধ ছিপি খুলে ছড়িয়ে পড়ল। সুড়সুড়ি দেওয়া, আচ্ছন্ন করা, ছিনিমিনি খেলা গন্ধ…

ওর আরো অনেক গন্ধ আছে জানিস? ঘেমে নেয়ে হেমন্তের দুপুরে যখন পিছদুয়ার দিয়ে আমার বাড়ি ঢুকত, নিষিদ্ধ আনন্দের একটা গন্ধ পেতাম ওর ঘাড় থেকে, কপালের ঘামে লেপ্টে থাকত চুল, একটু খানি ধেবড়ে যাওয়া কাজল, স্থানচ্যুত টিপ আর শয়তানি হাসি। বলত, একটু খানি শুয়ে থাকব শুধু… খবরদার দুষ্টুমি করবি না, ছুঁবি না আমায়।

তুই বল, ওকে কি ছুঁতে পাওয়া যায়? অত ভাগ্য আমার?
Advertisements