জষ্টি মাসের চাঁদিফাটা ‘ হাজার হাজার নীল জ্বালা ধরানো ফোস্কা’ মার্কা গরমের পর হঠাৎ বিকেল চারটের সময় হাফ প্যান্টের দল এর খেলা ছুটিয়ে বৃষ্টি নামে। অবাধ্য বাঁদর গুলো জল ছপছপিয়ে খেলে, গোপালের ন্যায় সুবোধ বালকেরা জানালার গ্রীল ধরে চেয়ে থাকে। কর্তা আন্দাজ করে ছাতা নিয়ে গেছিলেন ভাগ্যি, “ওমা তাও কাক ভেজা ভিজেছ গো, মাথা টা আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দি”, ‘একটি বর্ষার দিন’ মুখস্থ করতে থাকা মেয়েটা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে… “চায়ে আজ আদা দিও একটু”।

দশটার দিকে একটু ধরে বেয়াদপ বৃষ্টি টা। প্যান্ট হাঁটু অবধি উঠে আসে, “আজ কেন যে চামড়ার জুতো টা পড়লাম…” বাড়ি বাড়ি খিচুরির অভ্রান্ত গন্ধ টাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেবার সাহস, ইচ্ছে, ক্ষমতা কোনোটাই নেই। খবরের কাগজ মোড়া একটা কাঁচের বোতল ও বের হল কি? হ্যাঁ, আষাঢ়ের প্রথম দিন ই বটে।

লক্ষ নিযুত মাইল দূরে নির্বাসনে যক্ষ। সে পোড়া দেশে কদমফুল ছড়িয়ে থাকে না বড়রাস্তায়, রিকশাওলারা তিনগুণ ভাড়া হাঁকে না, সে দেশে ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ম্যাচ হেরে সে বসে আছে। এক চিলতে কিপ্টে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সে আষাঢ়ের মেঘ কে দেখতে পায়। মেঘকে ডাকে।
“একটা কাজ করে দেবে ভাই? আঠারো হাজার তিনশো ছত্রিশ ক্রোশ পূব দিকে গেলে আমার শহর, সেখানে যাবে? যাবে, জানি। আমার একটু খানি চিঠি পৌঁছে দেবে সেখানে? হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিকানা মুখস্থ আমার, উপর থেকে দেখলেই চিনবে তাকে। তোমার মতই একঢাল চুল তার, অকাল শ্রাবণে তার চোখেই বাসা বাঁধো তুমি, আর তুমি চিনবে না তাকে, এ ও হয়?”
” তাকে আমার কথা বোলো মেঘদূত, শুনিও আমার বিরহের বারোমাস্যা। সে বিশ্বাস করতে ভয় পায়, তাকে বুঝিও, ভরসা দিও, বোলো, ফিরব।”

একটানা ঘ্যানঘেনে তানপুরার মত বৃষ্টি বেজে চলে কলকাতায়। বাতাস ভিজে ভারী হয়ে আসে, ঝিঁঝিঁ সঙ্গত দেয় কোমল নিষাদে, বুকের উপর দিয়ে হেঁটে যায় শেষ রাতের শিয়ালদা মুখী লোকাল, ছুটি নেই। স্যাঁতসেঁতে হাওয়া কাঁপুনি ধরায় একটু, চা এর ভাঁড় থেকে এলাচের সুবাস আসে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পাতলা চাদরের ওমে, আর্দ্রতা টইটম্বুর চোখের পাতায়, গত চব্বিশ ঘন্টায় বৃষ্টি হয়েছে সহস্র ফোঁটা। এ শহর-ই আমার প্রেয়সী, মেঘদূত, এক অবুঝ বালিকা…
খুব ভালোবাসি, তাকে বোলো।

Advertisements