অনেকক্ষণ ধরেই বিশ্রী শব্দ টা শুনছিল পলাশী। মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই ভুরু টা কুঁচকে থার্ড ব্র্যাকেট। পাশবালিশ টায় মোক্ষম একটা পদাঘাত করে চিৎ হয়ে শুল সে। আধো খোলা চোখে যা দেখল, তাতে হাড় হিম হয়ে গেল তার। ঘরের ছাদে একটা ফাটল। সেটা বাড়ছে। ছড়িয়ে পড়ছে আনাচে কানাচে। আর ঝুরঝুর করে বালি সিমেন্ট পড়ছে তার মুখে। ভূমিকম্প!!!! চিৎকার করে মা কে ডাকল পলাশী। হয় কোনো আওয়াজ বেরোল না তার দাঁড়কাককন্ঠী গলা থেকে , (সেটা হলে আশ্চর্য ব্যাপার, এক বিয়াঙ্কা কাস্তাফিয়োরে ছাড়া তার প্রতিদ্বন্দী…) নয়ত মা ভাবছে “এই সুযোগ কেটে পড়বার…”। বিছানা ছেড়ে উঠতে গেল পলাশী। ইচ্ছে ছিল না বিশেষ, মা এলে মা কে ভূমিকম্প টা অফ করতে বলেই পাশ ফিরে ঘুমোনোর তালে ছিল সে, কিন্তু মা এল না যখন… হাত পা নিশ্চল হয়ে গেছে তার, আবিষ্কার করল পলাশী। কেউ চেপে ধরে রেখেছে তাকে, তাকে পরাভূত করা অসম্ভব। খানিক ব্যর্থ হুটপুটিয়ে ক্ষান্ত হল সে। ফাটল গুলি বেড়েই চলেছে! কোন অদৃশ্য **** তাকে ধরে রেখেছে, সেটা জানতে পারলে… আসন্ন মৃত্যু কে এড়াবার উপায় নেই, ছাদ ভেঙে পড়ল বলে। ছটফট করতে লাগল পলাশী। পৃথিবীর শেষ ঘনিয়ে এল তার চোখের সামনে। হুড়মুড় করে ছাদটা নেমে এল তার উপর, মরণের এক মুহূর্ত আগে তাকে বিছানায় আটকে রাখা আততায়ীর পরিচয় জানতে পেল পলাশী।

ল্যাধ।

Advertisements