কেবল তুমি-ই কি গো এমনি ভাবে
রাঙিয়ে আমায় পালিয়ে যাবে?
একবার সাধ করে নাথ ধরা দিয়ে, আমারও রং অঙ্গে নিয়ো…
প্রিয় আমার, ওগো প্রিয়…
রোজ ই তাকে দেখতাম। কোথা থেকে সে উঠত জানিনা, নামত আমার স্টপেজ আসার পর। একদিন ইচ্ছে করে নিজের যায়গায় না নেমে পিছু নিয়েছিলাম। দেখলাম নামল সে চৌরঙ্গীতে। ভাগ্যবান চৌরঙ্গী লেন, দুর্ভাগা যতীন দাস পার্ক!

রোজ বসত সে মহিলা লেখাটার তলায়। জানালার বাইরে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকত, যেন প্রথম বার রাসবিহারী এভিন্যু দেখছে! এলোচুল শুকোত ফুরফুরে হাওয়ায়। সাজগোজে জমক ছিল না, পরিপাট্য ছিল। মাঝে মধ্যে নভেল পড়ত কোন, বাকি সময় কানে গোঁজা হেডফোন। সে চোখ দিয়ে হাসত, আর ঠোঁট গুলো রাখা থাকত কামড়াবার জন্য! ঘড়ির band এ গুঁজে রাখত টিকিট। কিছু

ত্তেই আমার দিকে তাকাত না! রাগ হয়ে যেত! কি আছে দেশপ্রিয় পার্কের কলহ ময়  crossing এ যা আমাতে নেই?রোজ ফন্দি আঁটতাম। কথা বলার ছুতো খুঁজতাম। কোন কিছুই যুতসই হত না! ” ইয়ে, আপনাকে যেন কোথায় দেখেছি? ” ” শুনুন, আপনি কি রুদ্ধ বাবুর কোচিং এ পড়েন? ” ” আপনি বড় বিচ্ছিরি, আমার দিকে কি তাকাতেই নেই? ” ” আপনি খুব সুন্দর, কি স্বর্গীয় গন্ধ আপনার গায়ে ” ” আপনার কি, ইয়ে, মানে, আপনি প্রেম করেন? ” উফফ!

দিন কাটতে লাগল, আমি ” পকেটমার হইতে সাবধান ” এর চেয়ে এগোতেই পারলাম না! কাল কথা বলব-ই , ভেবে এলাম রোজ। সব শুনে বন্ধু বলল, “মূর্খ তুই, কাল বল গিয়ে, প্রথম সাক্ষাতে প্রেম না হলেও একশো সাইত্রিশ নম্বর সাক্ষাতে হতে বাধা কি?” বুকে অঢেল সাহস সঞ্চয় করে বাসে উঠলাম। সুন্দরী আজ বসার জায়গা পায়নি। ভালো-ই হল। এক পা এক পা করে এগোচ্ছি, মালের দায়িত্ব আরোহীর পেরোবার আগেই এক সুপুরুষ দিব্যি তাকে বসার যায়গা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল, এবং যথারীতি এক গাল হেসে কথা কইতে আরম্ভ করল! দুঃখে , রাগে , অভিমানে conductor টাকে বিনা দোষে দু কথা শুনিয়ে দিলাম।

হাজরার মোড় এ সিগনাল এ থামল বাস। নেমে পড়লাম। দু পা যেতেই পিঠে আলতো টোকা… ঘোরার আগেই গন্ধ জানান দিল আগন্তুকের পরিচয়! মুখোমুখি হলাম। সে হেসে বলল ” আজ এক স্টপেজ আগেই নেমে গেলেন যে? ”

Advertisements