দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ইতস্ততঃ করে বার তিনেক টোকা মারল সে। সুদৃশ্য দরজা খানা, ভারী পাল্লা, রঙ চটা আবলুশ কাঠের জৌলুস ফিরতে কেবল এক পালিশ এর প্রয়োজন। নিজের সম্বন্ধে সেই কথা কি প্রযোজ্য? নেমপ্লেট টা রাশিয়ান অক্ষরে লেখা কেন?
 
গত চারদিন ধরে প্রবল রাগ পকেটে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। কিছুতেই ছাড়বে না, এই পণ করে সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। আসল ঘটনা ঠিক কি ঘটেছিল সেটা তার মাথায় ঘেঁটে গেলেও তার যে অন্তরীক্ষ-এর উপর রেগে থাকবার কথা, সেটা সে ভোলেনি। প্রতিবার সে  ছড়িয়ে ফেলে, বিশ্রী ভাবে। মাথা গরম করে যুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে কেঁদে ফেলে। তার অভিযোগ অভিমান এর তোয়াক্কা-ই করে না অন্তরীক্ষ। খুব বাজে ছেলে। আজ সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ভেবে এসেছে বাড়ি থেকে, ঠিক কি কি তার বলার আছে। কোন সুযোগ-ই দেবে না আজ অন্তরীক্ষ কে। মনে মনে সাহসী কথা গুলো ঝালিয়ে নিল সে, আজ এস্পার নয় ওস্পার।  
ভারী পা এর এগিয়ে আসার আওয়াজ পেয়ে সে দু পা পিছিয়ে দাঁড়াল, এতক্ষণ তার নাক ঠেকে ছিল দরজায়। দরজা খুলল অন্তরীক্ষ। 
গলায় গাম্ভীর্য আর আগামী পাঁচ মিনিটে একটা গুরুতর  সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস নিয়ে খুব ঠাণ্ডা ভাবে সম্বোধন করল সে।   
 
– অন্তরীক্ষ–
– ঘেঁটু —
 
ফ্যাক করে হেসে ফেলল বিশালাক্ষী।
Advertisements