কলকাতার প্রথম বৃষ্টি টা বরাবর-ই একটু বদ। লোক-কে অপ্রস্তুত করতে এর জুরি নেই। সকালে মেঘটা দেখে হয়ত বাবা বলল, ছাতা টা নিয়ে বেরো। আমি বললুম নাহ, ব্যাগটা ভারি এমনিতেই। অমনি ফেরার পথে ঠিক যোধপুর পার্কের সামনেটায় অতর্কিত আক্রমণ করল। এর শয়তানির শেষ নেই। তোমার যাকে পছন্দ, বলতে পারছ না মুখ ফুটে, তাই তার সান্নিধ্য প্রবল অস্বস্তিকর, ঠিক তার সাথেই মেট্রোর মুখে আটকে রেখে দেবে, বাধ্য করবে এক ই রিকশায় বাড়ি ফিরতে। তার ভেজা চুল থেকে গাল বেয়ে নামবে একটা ফোঁটা , তুমি মুছিয়ে দিতে ও পারবেনা। 
গলফগ্রীনের রাস্তা দিয়ে সাইকেলে ফেরার সময় আবার ভিজিয়ে দেবে। চশমার কাঁচে বিন্দুদের নকশা নিয়ে দিশেহারা হবে তুমি, সেটাই সে চায়।
ট্যাক্সির জানালার কাঁচে বাষ্প জমবে… ভবানিপুরের পুরোন ময়লা হলদে বাড়ির তিনতলার বারান্দা থেকে এক নিঃসঙ্গ দিদিমা ভাববেন সেই ষোলটা চিঠি দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ছেলেটার কথা, আক্ষেপ হবেনা কোন, কিন্তু ছেলেটার মুখটা আর মনে পড়ে না…
বেকবাগানে বিয়েবাড়ি যাওয়ার পথে সাজুগুজু করা রমণী দের মুখ থেকে বাছাই করা খিস্তি ফুটবে, কনের বাপের মাথায় হাত, বরের মনে যদিও ভারি ফুর্তি!
তারপর ঝুপ করে থেমে যাবে। সন্ধ্যেবেলায় বারান্দার গ্রিল এ থুতনি ঠেকিয়ে তুমি হেলে থাকা বাতিস্তম্ভের নিওন আলোটার  দিকে তাকিয়ে থাকবে।  ভিজে রাস্তায় প্রতিফলিত হবে সারা দিনের মুহূর্ত গুলো। চুপচুপে  ভিজে বাড়ি ফিরবে পাশের গলির সুপ্রিয় কাকু। আর ওই ছেলেমেয়েদুটো, যাদের তুমি দেখেছ রোজ ই, আনাচে কানাচে সাইকেল থামিয়ে গল্প করতে, কিন্তু নাম জানো না।  কাজের মাসি আসেনি, কিন্তু তবু ও কড়াই চাপিয়ে বহুদিন পর দু কলি গেয়ে উঠেছে মা। আর কখন যেন চুপিসারে তোমার পিছনে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে জানতে চেয়েছে, কী হয়েছে রে তোর?
______________________________________________
ছবি সৌজন্যঃ বর্ষণা গোস্বামী
Advertisements