ছাতিম

মিহির কে পুঁতে ফেলার দিন বৃষ্টি নেমেছিল। চোদ্দ দিনের মাথায় সে বৃষ্টি থামল।

এই চোদ্দদিন একপ্রকার ঘরবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছে তাকে টং এর ঘরে। থাকতে হয়েছে বলা ভুল। থেকেছে। শোকপালন? সে নিজেও জানেনা। জানালাগুলো দিয়ে হুহু করে পশ্চিমি হাওয়া ঢোকে। বন্ধ করার পরেও। পাখা চালাতে হয় না। নোনা হাওয়া। জোলো হাওয়া। ওদিকটা সমুদ্র যে। সমুদ্রটা মোটে পছন্দ না তার। ঘোলা জল। পায়ের কাছে আবর্জনা সমর্পণ করে। এক সময় রোজ যেত। নিত্যদিন। চশমা ঝাপসা হয়ে যেত মিহি ছিটেয়। জামায় মুছতে হত মুহূর্মুহ। এক পা বালি নিয়ে ফিরত তারপর। সে বালি তাড়া করত তাকে রাত্রিদিন। চুলের জটে, হাঁটু অবধি তোলা সালোয়ারে, গামছায়, পাপোষে, বালিশের ওয়াড়ে, পর্দার গায়ে, ভুরুতে, কেচে শুকোতে দেওয়া নীল কামিজটায়, নারকেল তেলের শিশির ঢাকনায়, পাঁচফোড়নের কৌটে। গায়ে দেবার ছাই ছাই চাদরটা ঝাড়ার সময় কিছু ঝরে পড়ল একবার। একদিন সকালে মুখের ভিতর বালি টের পেল সে। তারপর থেকে ছাদ থেকেই নোংরা ফেনার ঢেউ দেখত শ্রী। ছাদ থেকে গোটা গ্রামটা দেখা যেত, অনেক উঁচু থেকে, হাঁটুর উপর সাদা লুঙ্গি তোলা খয়েরি মানুষগুলো দিশেহারা পিঁপড়ের ব্যস্ততায় নড়ে। ছাদ থেকে পূবদিকে মালাই পাহাড়ের সারি দেখতে পেত সে। নারকেল গাছের মুণ্ডগুলো মাকড়সার জালের মত কুয়াশা ভেদ করে জেগে থাকত। আর থাকত বিদ্যুৎ কারখানার অবিরাম চিমনিগুলো। মেঘগুলো পায়চারি করত তার উঠোন দিয়ে। মনে মনে কল্পনা করত শ্রী। এক দঙ্গল সন্ত্রস্ত কয়লা মাখা শ্রমিক নিঃশব্দে কাজ করে চলেছে। কী ভয়ানক রহস্য যেন লুকোনো সে কারখানার ভিতর। কী তৈরী হচ্ছে কেউ জানে না। এক জোড়া অদৃশ্য চোখ নজর রাখছে সবসময়। মাঝেমাঝে মনে হয় সৈন্য পোষা আছে ভিতরে। বা সৈন্যই তৈরী হচ্ছে। তাদের ইস্পাতের অস্ত্র, লোহার বর্ম। তাদের কদাকার মুখে যুদ্ধের ক্ষত। তারা কেবল হুকুম তামিল করতে জানে। ভাবতে ভাবতে শিউরে উঠত শ্রী। ভাবতে ভালো লাগে।

এই চোদ্দ দিন ছাদে যাওয়া হয়নি। সোঁদা তোষকে স্থাণু হয়ে থেকেছে। চেনা মুখ এসেছে কিছু। থেকেছে। থাকছে। কারুর মধ্যে বিষণ্ণতা টের পায়নি শ্রী, উল্লাস ও না। কথা হয়েছে বিস্তর। শ্রী ও মুখ বুঁজে থাকেনি। হাওয়া ঘরে দেশলাই জ্বালিয়েছে কায়দা করে। সুকিয়াতে বেশি দিন নেই আর। তামাকপাতা আর অবশিষ্ট গাঁজাপাতা গুঁড়ো করে কাগজে পাকিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। বুক ভরে সে ধোঁয়া নিয়েছে শ্রী। নিয়েছে অন্যরা। ঝড়টুকু জানালার বাইরেই থেকে গেছে, বৃষ্টি বেখেয়ালে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে তাকে। সোঁদা তোষকে কুন্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়েছে সে। মিহিরের কথা ভেবেছে। মিহির। মাটির তিনফুট নীচে। কফিনহীন, চাদরে মোড়া তার শরীর। চাদরে নিজেকে মুড়ে নিয়েছে শ্রী। ঘরভর্তি লোক আবছা হয়ে গেছে, শরীরে মিহিরের উত্তাপ পেয়েছে শ্রী।

কখনও ক্ষিদে পেয়েছে। শরীরে মন্থন হয়েছে তার, খালি কৌটোর তলানি থেকে এক আঙুল বিস্কুটের গুঁড়ো মুখে পুরেছে। কলাপাতায় খিচুরি এনে দিয়েছে কেউ কখনও। শেষ কড়াইশুঁটি টাও খুঁটে খেয়েছে সে। প্রতিদানে আবডালে বাহককে তার বুকে হাত দিতে দিয়েছে। কিছু যায় আসে না আর। আঙুলগুলো তার বৃন্ত ছুঁচ্ছিল যখন, তৃপ্তি ভরে নিজের আঙুল চাটছিল সে। তারপর বোতাম আটকে হাত ধুয়ে ফিরে এসেছিল ঘরে। সেই বাহকের হাত ঘুরেই গর্ভবতী সিগারেট ফেরত এসেছিল তার কাছে।

চোদ্দ দিনের দিন সকালে বৃষ্টি থামল। থমথমে অস্বস্তি বাস করছিল ঘরে। দুই সপ্তাহের বৃষ্টি থামার নৈঃশব্দ সইয়ে নিতে সময় লাগে। শ্রী উঠে জানালা খুলে দিয়েছিল। হাওয়ার তেজ ও কমেছে। শ্রী খোঁপা খুলল। শ্রী জামা সরিয়ে রাখল। শ্রী তার ঘরময় ছড়ানো অর্ধচেতন চোখের সামনে অনাবৃত হল। দরজা খুলে ভিজে সিঁড়ি বেয়ে উঠল ছাদে। পায়ের পাতা থেকে একটা ভিজে ঠাণ্ডা তার নগ্ন শরীর বেয়ে উঠে কান, নাক বেয়ে মাথায় উঠল। ভিজে পাঁচিলে শরীর এলিয়ে নীচে তাকাল শ্রী।

মিহিরের শরীর জল পেয়েছে বিস্তর। তার চোখের পাতার উপর আলগা মাটি জমাট বেঁধেছে। তার ফ্যাকাশে রক্তশূন্য দেহ চুঁইয়ে মিশেছে মাটিতে। তার কঠিন হাড়ে শিকর গজিয়েছে। মিহিরের দেহের উপর একটা গাছ জন্মেছে চোদ্দ দিনে। চোদ্দ দিনে সে গাছ শ্রী এর মাথা ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিত্যক্তমান গ্রামের অবশিষ্ট মানুষ একটা উলঙ্গ মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখেছে কিছু আগে। এখন সে সেই গাছের তলায়। নজর দেবার সময় কারুর নেই। গ্রাম ছাড়তে হবে। অবাক হবার সময় কারুর নেই। গ্রাম ছাড়তে হবে।

গাছটাকে জড়িয়ে ধরে শ্রী। বুক ভরে শ্বাস নেয়। ছাতিম। ছাতিম।

প্যান্টোগ্রাফ

“ছেলেটা বাড়ি থেকে পালিয়েছিল সতেরো বার, তাকে ষোলবার এর বেশি ফেরানো যায়নি।”

ভাঁড় ভর্তি চা, চলকে খানিক আঙুলে। কানায় কানায় পূর্ণ, চুমুক দেওয়া আশু কর্তব্য, নইলে ফের বন্যা। অতএব নীলকণ্ঠ হতে হল। হাসি মুখে জিভ পোড়াল ছেলেটা। প্রতিটি শিরা উপশিরা ধমনী বেয়ে গরম ছুটল। ভোরের আলসে শেষঘুমটা বিদায় নিল ঝটকা মেরে। সে অর্ধেক ভাঁড় নিয়ে নেমে দাঁড়াল প্ল্যাটফর্মে। বড্ড ভোর। কালচে নীল হয়ে আছে, যদ্দূর চোখ যায়, নাকি সবুজ, কে জানে। আকাশটা ফর্সা হচ্ছে। এখানে থামার কথা তো নয়। ট্রেনটা আঁটেওনি, এত ছোট স্টেশন। মেঝে ভিজে, লাইনের উপরের কয়লা ভিজে, বাতাস ভিজে। নীল ডোরাকাটা ট্রেনটা ভিজে। গায়ে দেবার একটা কিছু নিয়ে বেরোলে ভালো হত। ড্রাম কেটে বানানো ডাস্টবিন লক্ষ্য করে ভাঁড়টা ছোঁড়ে সে, ফসকায়। পিছল প্ল্যাটফর্মে সেটা গুঁড়িয়ে যায়। উৎকর্ণ হয়ে হুইসিলের অপেক্ষা করে সে, দরজা থেকে বেশী দূরে যাবার সাহস করে না।

“ট্রেনের থেকে ভালো তালবাদ্য হয় না বোধহয় আর।”

সারারাত তাকে গল্প শুনিয়েছে ছেলেটা। মানুষ বলতে ক্যুপে তারস্বরী কচি সমেত বাপ মা, ধেড়ে মৌনিবাবা, মৌনিবাবার ফিসফিসে বৌ, বাচাল ছেলেটা, আর সে। আর নিত্যপায়চারিকারী চার্জ খতম হতে থাকা ভুঁড়িকাকু আর ছোট্ট প্যান্ট পরে ঠ্যাং দেখিয়ে ঘুরে বেড়ানো একটা মেয়ে। ছেলেটার সম্বন্ধে আগাম ধারণা বাগিয়ে রেখেছিল বিশালাক্ষী। লাইন মারবে। মারবেই। তার রূপের প্রশংসা বইয়ে দেবে। ফোন নম্বর চাইবে। নইলে ঘ্যানঘ্যান করবে। শুরুটাও সেরকম ই হয়েছিল। ড্যাবড্যাব করে চেয়ে ছিল তার দিকে। কিন্তু তারপর খুব সৎ কৌতূহল দেখিয়ে বলল “আপনি মায়াবতীজির কেউ হন?” থাপ্পড় ঠাস করেই মারতে হয়। দুম করে কিল। ঢিসুম করে ঘুঁষি। টক করে গাঁট্টা। ক্যাঁৎ করে লাথি। কিন্তু অনেক সাক্ষী মজুত, তাই বিশালাক্ষী তার বিশাল চোখ দিয়ে কটমট করে তাকানোতেই ক্ষান্ত হল। দেখিয়ে দেখিয়ে ডেয়ারী মিল্ক খাচ্ছিল তারপর। বলল “দিতাম, কিন্তু আপনার মা নিশ্চই বারণ করে দিয়েছে অচেনা কারুর থেকে কিছু খেতে?” খিমচায় যেন কী করে?

বড্ড জ্ঞান দিতে ভালোবাসে ছেলেটা। শুনতে শুনতে ভাবছিল বিশালাক্ষী। এরকম একটা গল্প-মাফিক ট্রেন-প্রেম করবার বহুদিনের শখ। ট্রেনে শুরু। ট্রেনে শেষ। ছেলেটির তাকে অভিভূত করার চেষ্টা। তার চোখে প্রশ্রয়। বিদায়লগ্নে হাল্কা ব্যথা। মুচমুচে। কিন্তু এর প্রতি প্রেম জাগছে না তেমন। কিন্তু একটা ঝিমঝিমে ভালোলাগা। সারারাত তাকে গল্প শুনিয়েছে ছেলেটা। বাড়ি পালানোর গল্প। পালানোর গল্প। সবকিছু থেকে, সবার থেকে।

“প্যান্টোগ্রাফ কাকে বলে জানো?” বিশালাক্ষী তালবাদ্য মানেও জানত না।
“ট্রামের বা ট্রেনের মাথা থেকে যে টিকিটা উপরের বিদ্যুৎবাহী তার ছুঁয়ে চলে, তাকে বলে প্যান্টোগ্রাফ।”
“তো?” জানতে চেয়েছিল বিশালাক্ষী।

“ট্রামকে অনেকদেশে বলে স্ট্রিটকার। আমার জীবন ওই-ই। স্ট্রিটকারের মত। যাত্রীর মত মানুষের আনাগোনা। কেউ এক দু স্টপেজ, কারুর বারো টাকার টিকিট। আমি প্যান্টোগ্রাফের তার খুঁজছি।”

হড়বড়িয়ে কত কিছু বলেও ফেলেছিল বিশালাক্ষী। নিজের কথা। আশা, অভিযোগ, অপরাধবোধ। কিন্তু কী করে? তার বলা নামটাও সত্যি কিনা তাও সে জানে না, একটা অচেনা ছেলে কে এতগুলো কথা… বিশালাক্ষী হাসে। ধুর। ছেলেটা মোটে প্রেমে পড়েনি তার। নিজের ছ’খানা ভীষণরকম কান লাল করা প্রেমের গল্প শুনিয়েছে, শুনিয়েছে সারারাত কোনও এক বাস ডিপোতে একসাথে রাত কাটিয়ে কোথাও একটা যাবার বাসে সেই একজনকে তুলে দেবার গল্প। তারপর বিশালাক্ষীর সেই একজনকে ফিরে পাবার ফন্দি দিয়েছে। সবার একজন একজন থাকে।

ট্রেনটা অনেক্ষণ থেমে আছে। সাইড লোয়ারের অন্যটা ফাঁকা। বিশালাক্ষীর সিগারেট পাচ্ছে। দরজা অবধি এগোতেই নড়ে উঠল ট্রেনটা। ছেলেটা রয়ে গেছে প্ল্যাটফর্মে।

“উঠে এসো!” সে চেঁচায়। “উঠবে না?”
হেসে মাথা নাড়ে ছেলেটা। “এই অবধিই টিকিট।”
বিশালাক্ষীর সহসা বুক মোচড় দেয়। এরকম তো কথা ছিল না!  কেন? আর… আর… আরও কিছুক্ষণ… শেষ স্টেশনটুকু অবধি?
“এখনই না! এখনই নয়! প্লিজ? আর একটু?” নিজেকে বিশ্বাস হয় না বিশালাক্ষীর।
ট্রেনটা গতি নেয়।
————————————–
ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।

সাপুড়ে

বাবুরাম কেটে পড়ার তালে ছিল। পা টিপে টিপে খিড়কী দিয়ে বেরিয়ে উঠোনপানে এগোচ্ছিল সাবধানে। কিন্তু বাবুরামের কপাল লেখার সময় বিধাতা সরকারের কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছিল। তাই সে ধরা পড়ে গেল দুর্জয় বাহাদুরের কাছে। দুর্জয় তেতলার বারান্দা থেকে চিল্লালেন, “ও বাবুরাম? বলি কোথা যাস?” বাবুরাম আখ ছুলতে পারে দাঁতে, নিমের ডাল নিয়ে দাঁতন করে সকাল বিকেল, তাই জন্য ঐরকম রাক্ষসীয় দাঁত কিড়মিড়ের পরেও সেগুলি টমের মত খসে পড়ল না। মাথা তুলে গলাটাকে যথা সম্ভব আয়ত্তে এনে সে বলল “বাবু ডাকতিসেন?” দুর্জয় কানে শুনতে পাচ্ছেন  না দুই দশক হতে চলল। কিন্তু সেটা টের তিনি পান না। তবে বাবুরাম থেমেছে। মাথা তুলে চেয়েছে। মুখ ও নেড়েছে। “সিঁড়ির দরজায় আগল দেওয়া নেই, একটিবার আয় বাবা?” বাবুরাম গরীব। অগত্যা। 
 
তেতলায় উঠতে এই বয়সেও হাঁপ ধরে না বাবুরামের। আধা ভেজানো দরজা খুলে বসার ঘরে ঢুকল সে। গতিক ভালো ঠেকল না। সুবিধের মানুষ বলে বাজারে বিশেষ সুনাম দুর্জয় বাহাদুরের নেই। ইদানীং বড্ড বাড় বেড়েছেন। বলিহারি শখ চাপে, আর মাথা কাটা যায় বাবুরামের। প্রিয় ঘাড়ে হাত বুলোতে বুলোতে মেঝেতে বাবু হয়ে বসল বাবুরাম। গোল সোনালি ফ্রেমের চশমাটায় “হাহ!” করে এতখানি মৌখিক বাষ্প ছেড়ে ফতুয়ার খুঁট দিয়ে সেটা মুছতে উদ্যত হলেন দুর্জয়। বাবুরাম ডাইনে বামে তাকাল, নাক খুঁটল, তারপর অ্যাশট্রেটা চালান করল ঝোলায়। বাহারি জিনিস, দু’পয়সা আসবে। চশমাটা কানে গুঁজে দুর্জয়বাবু কাউচে অবস্থান করলেন। বোমাটা পড়ল বলে। বাবুরাম আঁচ করতে থাকে। ডাগর মেয়েমানুষ? গেল পূর্ণিমার এক হপ্তা আগে নেকড়ে চেয়ে বসেছিলেন দুর্জয়। নেকড়ের বাচ্চা। তারা নাকি তেমন তেমন পূর্ণিমায় মানুষ হয়ে যায়। এবার কী?
“দিন দিন দুনিয়ায় দুষ্টের সংখ্যা বাড়ছে বাবুরাম। বিহিত চাই। স্বহস্তে ইয়ে দমন। দুর্জয়ম্যান। নিদেনপক্ষে এমএলএ দুর্জয়। বুঝলি?”
বাবুরাম সভয়ে মাথা নাড়ল। সে বোঝেনি।
“আমায় কিছু দুষ্ট এনে দে। ভয়ানক কিছু।”
বাবুরাম আবার মাথা নাড়ল। সে বুঝেছে।
” জঙ্গি এনে দি কর্তা? শস্তা যাচ্ছে বেশ। নারকেলডাঙার বাজারেই দেখছিলাম…”
দুর্জয় শঙ্কিত হলেন। “ওরে না না। জঙ্গি উগ্রপন্থীরা কামড়ে দেয় শুনেছি। ইবোলা কি জিকা ভাইরাস ধরবে শেষে। কী দরকার? আর কী কী আছে রে?”
বাবুরাম মুচকি হাসে। “কালোবাজারি আনি? বোয়াল সাইজের লুটেরা বাবু, তাজা হবে…” 
দুর্জয় ভুরু কুঁঁচকালেন। “ছোঃ ওটা আবার কোনও ক্রাইম হল? নে নে ভালো করে দেখা দিকি আর কী আছে?”
বাবুরাম নড়েচড়ে বসল। স্পষ্টতই অসন্তুষ্ট। “অনেক কটা ইয়ে আছে। রেপ। রেপ। রেপ করে যারা। অর্ডারি মাল। বললে ডিসকাউন্টে আনিয়ে দেব।”
দুর্জয় ফতুয়া টেনে কাছা ঠিক করে পিছন আড়াল করে বসলেন। “না। ওগুলো না। ভয় করে।” মিনমিন করে বললেন তিনি। 
বাবুরাম চটে যায়। ছোটুলালের ভাষায় খচে বোম। “কী চান বলেন দিকি পষ্ট করে তবে।”
দুর্জয় এদিক ওদিক চোখ চালিয়ে নেন। “আরে। বেশি নখ দাঁত থাকবে না, বুঝলি? বেশি দৌড় করাবে না। নো ফোঁসফাঁস নো উৎপাত। সেইরকম একটা কিছু। বুঝলি। কিন্তু জ্যান্ত হওয়া চাই।” 
 
বাবুরাম বিজ্ঞের মোট মাথা নাড়ে। “সেটা আগে বললেই হত। জলের দরে বিকোচ্ছে। ইস্টুডেন্ট। ছাত্তর। কলেজের। যাদবপুর না কোথায়? মেলা পাওয়া যায়। আনা করাই?” 
 
দুর্জয় প্রসন্ন হাসেন। 

চড়া

জায়গাটার নাম অছিপুর। ম্যাড়মেড়ে। পানসে। স্যাঁতসেঁতে। বৃষ্টি তেমন পড়ে না, কিন্তু বাইরে বেরোলে চোখে নাকে ভিজে ভিজে ঠেকে। সবুজ চাদরটা মাথার উপর দিয়ে জড়িয়ে হোঁচট খেতে খেতে হাঁটছিল বিশালাক্ষী। বড্ড শ্যাওলা, উঠোনটুকু পেরোতেই এক যুগ পেরিয়ে যায়। একটা নোনতা, সোঁদা গন্ধ মাথা ধরে রাখে। একটু চা পাওয়া যায় কোথাও?
বাইরে বাজারটা সরগরম। উচ্ছ্বল ব্যস্ততা। কুয়াশাটা পাতলা হয়, চড়া আলোয়। চড়া। সবকিছুই বড় চড়া, এই অছিপুরে। শব্দ, রঙ, গন্ধ। নৌকো থেকে নেমে এক পাড় কাদার মধ্যে গোড়ালি ডুবিয়ে নৌকোটাকে ফিরে যেতে দেখেছিল বিশালাক্ষী। অছিপুরের আর্দ্রতায় আরও দু’ফোঁটা যোগ করেছিল সে। দু’টো মেয়ে কাঁধে ধাক্কা দিয়ে তাকে পেরিয়ে গেল। টাল সামলে নিল সে। একপ্রকার অদৃশ্যই সে অছিপুরে। যে মালাওলাটা চড়া সুরে হেঁকে ফিরি করে, পথচলতি সবকটা মেয়ের হাতে রজনীগন্ধার বালা পড়িয়ে দেয়, রসিয়ে কথা বলে বেশ, জুঁই এর খোঁপা বেচে চড়া দামে, টগরের গোছ নেড়েচেড়ে দেখবার সময়ও ফিরে চায়নি বিশালাক্ষীর দিকে। ছিটেফোঁটার সম্ভবনা আসন্ন হয়। এক গেলাস চা পাওয়া যেত কোথাও?
চা ছিল ঘরে। মিহি গুঁড়ো, তেজী দানা আর তাজা পাতা মেশানো, সমানুপাতে। খানিক্ষণের জন্য হলেও নোনা বাতাস ছুটি নিত সে চা ফুটলে। কেটলিটা শোঁশোঁ করত। বিশালাক্ষী অদৃশ্য, তার কন্ঠ অশ্রাব্য, কিন্তু তার চা অঘ্রাণ্য নয়। দুই টুকরো এলাচ পড়ে আছে শুধু, “নিলাম”টুকুও বলেনি কেউ। তাই বাজার। কী একটা পরব চলছে। চড়া আতরে ঝিমঝিম করছে চত্বর। সরে আসে বিশালাক্ষী। অন্ধকারে। আড়ালে। ফারাক কই?
মন্দিরের চাতালটা খালি আজ। এইদিকটায় কেউ বড় আসে না। মাথায় তিলক কাটা গোঁয়ারগোবিন্দ পুরুতটাও নেই এখন। থামে হেলান দিয়ে বসে বিশালাক্ষী। এই আসনটা বুড়ো রুবাবওলাটার। সামনে রুমাল পেতে তিন চারটে সুর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাজাতে থাকে সে। ভালো লাগে। বাজনা থামিয়ে দু’একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে সে। বিশালাক্ষীকে সে দেখতে পায়। বাজারে রয়েছে রুবাবওলা আজ। পুরুতটাও মন্দ না। খিটখিটে, তবু… পানের খিলি সাজিয়ে রাখে বিশালাক্ষীর জন্য। বিশালাক্ষী হাঁটুর উপর মুখ গুঁজে বসে। কপালে শিশির জমে। পান চাই না। একটু চা…
অছিপুরের মোহনায় চড়া পড়ে। নাব্যতা শূন্য, নৌকো ঢুকবে কেমন করে? বিশালাক্ষী, জোয়ার আসবে কবে?

আগ্রাসী

আমাদের বাড়িটা বেশ আগ্রাসী। কিন্তু টের পাবে না বাইরের কেউ। আগ্রাসনটা লুকোনো। প্যাসিভ আগ্রেসিভ বলে না? ওই। এই ধর বাইরের লোহার গেটটা খোলার আওয়াজ হল, মা বলল, “কে এল রে, দ্যাখ তো?” কেউ আসেনি। পাশের সমরকাকুদের বাড়ির গেট খুলেছে। চোদ্দবার খোলে, তবু খালি মনে হয় আমাদেরই গেট। আগ্রাসন নয়? অধিগ্রহণের ইচ্ছে নয়? নিজের গেট তো আছে বাপু, তবু অন্যের গেটের দিকে নজর কেন? লোহারগেট কেলেঙ্কারি। 

 

তারপর আবার টেনেও আনে। উপরতলার কলিংবেলটা সদাদৃশ্যমান, কিন্তু ওতে যেন কারুর হাত দেওয়া মানা। রোববার সকালে নিমতেতো মুখে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্যনীতি পড়ছি, বড় আগ্রাসন আগ্রাসন ভাব, আগ্রার আসন ছেড়ে ব্যাটা কোওন দক্ষিণে…, যাক গে, বাবা বারান্দার দিকের জানালাটার পর্দা তুলে (দিনের বেলা আলো জ্বালা মানা) রবিবাসরীয়তে বুক রিভিউ পড়ছে, রান্নাঘরে গরম তেলে কালোজিরের ছ্যাঁকছ্যাঁক, এমন সময় কেউ একটা কলিং। বেল পাকলে কাকের কী, কিন্তু কলিং বেল পাকলে আমার পোয়াবারো, ক্ষণিকের বিরতি। বারান্দার গ্রিল থেকে মুণ্ডু বের করে দেখি কে একটা বেশ আকাশ পানে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিরাশ হই। উপরে কারুর সাথে দরকার। বিরসবদনে বলি “ওপাশের বেলটা। দরজার ওপাশের।” আমাদের ঘন্টি কেউ বাজায় না, সোজা এসে গ্রিলে খটাখট করে, “রিমিঝিম আছ নাকি?” বুলু কাকিমা। যাচ্ছেতাই।

 

দোতলার বারান্দায় ফোকলা ঠাম্মা আর কার্নিশে কানা বিড়ালটা বসে থাকে। কাজের মধ্যে হাই তোলা। ডন বিট্টু কর্মকার ঢিল ছোঁড়ে তার নিরবয়ব শ্রেণীশত্রুর দিকে। তার গতর নেই বলে তাক করতে সুবিধে, প্রত্যেকটাই লক্ষ্যভেদ করে। মানিক সাহা তার হুমদো ট্রাক থেকে স্টোনচিপস নামানোর তদারকি করে। নর্দমায় পড়ে যাওয়া বলটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটা টাকলা ছেলে। কালি মেখে হাতে স্ক্রুড্রাইভার নিয়ে পিছনে তাকিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হোঁচট খায় সাইকেলমাস্টার সুকু। মিস্তিরিপাড়ার মসজিদের সামনে উঁকি মারতে মারতে এগোই, মা ফোন করলে কেটে দি, এসেই গেছি তো। 

 

আমি আসিনি, দোতলা ফ্যাকাশে হলুদ বাড়িটা বাড়তে বাড়তে রিচার্জের দোকান অবধি এসে ঠেকেছে। কোনদিন আতলান্ত পুকুর পার করে ফেলবে। বড্ড আগ্রাসী। 

অবশ

শুনতে পাচ্ছেন? অবিনাশবাবু? শুনতে পাচ্ছেন? এই যে এই দিকে দেখুন, আমি কী বলছি বুঝতে পারছেন? মাথা নাড়ুন, বুঝতে পেরে থাকলে মাথা নাড়ুন। আপনার কোনখানে যন্ত্রণাটা হচ্ছে বলতে পারবেন? অবিনাশবাবু? আঙুল নিয়ে দিয়ে দেখালেও হবে। সব ঠিক হয়ে যাবে অবিনাশবাবু, শুধু আপনাকে বলতে হবে ব্যথাটা কোথায়? মাথার পিছনে? বুকের বাঁ দিকে? তলপেটে? পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন? রক্ত তো দেখছি না। বিষক্রিয়া? আপনি কি…? অবিনাশবাবু, আপনি কি…? অবিনাশবাবু?

আপনার ঠোঁট নড়ছে, দেখতে পাচ্ছি। কী বলছেন বুঝতে পারছি না অবশ্য। কেমন তরঙ্গের মত তিরতির কাঁপছে আপনার গলা। দুটো বাঁশি একসাথে বাজতে শুনেছেন কখনও? যখন একই স্বরে দু’টোই স্থির হয়, অনুরণন হয়। কাঁপে তিরতির করে। সেইরকম। কীসের সঙ্গে হচ্ছে বলুন তো? অনুনাদ, রেজোন্যান্স, কীসের সাথে? না, আমার কোনও ব্যথা নেই। কোনও যন্ত্রণা নেই। বিকেলবেলাতেও চড়া রোদ হত ওখানে, জানেন, বালির উপর বসে থাকতাম। কাছেই বন্দর ছিল তো, জাহাজ যেত অনেক। রোজ গিয়ে বসলে, চারখানা কম করে দেখাই যেত। ছোট বড়। এত জাহাজ, একটা খুব মনে পড়ে। দিগন্তের ওইপারে ছিল জাহাজটা, ছোট্ট, বিন্দু। মেঘের মত ধোঁয়া, ধোঁয়ার মত মেঘ। চলে যাচ্ছিল জাহাজটা, ধোঁয়াটুকু রেখে। না না ব্যথা নেই কোনও। জ্বরটর হয়নি। ছোটবেলায় হয়েছিল একবার। বিছানাটা বনবন করে ঘুরছিল মনে হত। তখনও ছায়াগুলো ঝুঁকে পড়ত আমার উপর। এখন যেমন। হাতগুলো মনে হত বেলুনের মত ফুলে গেছে। হাল্কা। ভীষণ হাল্কা। গোটা শরীরটা। এখন সেরকমই আবার মনে হচ্ছে জানেন। ঘোর। হাল্কা। আপনি বুঝবেন না, আপনাকে বোঝাতে পারব না। না। ব্যথা নেই কোনও, আর কোনও যন্ত্রণা নেই। আজকাল অবশ হয়ে গেছে, তাতেই আরাম লাগে…

শুনুন, অবিনাশবাবু, আপনার রক্ত নিতে হবে। একটা ছুঁচ ঢুকবে, সামান্য লাগবে। কিন্তু একটু অসুস্থ বোধ করতে পারেন, তবে আখেরে আপনার ভালোই হবে। বলছি দাঁড়াতে পারবেন উঠে? নিদেনপক্ষে বসতে? এইত্তো। এইত্তো শাবাস! ওষুধ ধরেছে। এইবার আস্তে আস্তে বল ফিরে পাবেন শরীরে, এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দিলে চলে? কত্ত কাজ বাকি আপনার! এত তাড়াতাড়ি থোড়াই আপনি ছুটি পাবেন! এখনও দাবী মেটানো বাকি কত, কত কাউকে নিরাশ করা বাকি…

সেই জাহাজটাকে দেখতেই পাইনি। ধোঁয়াটুকু দেখেছিলাম। আরও একটা কিছু দেখেছিলাম। বা দেখিনি, জাহাজটার মত। চোখের কোনা দিয়ে দেখেছিলাম। অথবা দেখিনি, দেখতে পাইনি। মানুষের দৃষ্টির ব্যাপ্তি একশো আশি ডিগ্রীর থেকে কম। তাই চোখের কোণা দিয়ে। কিছু একটা, ফস্কে গেল। ফিরে তাকালাম, কিন্তু ততক্ষণে…। কী ছিল বলুন তো? কোনোদিনও জানতে পারব না, না? অনুরণনটুকু টের পেয়েছিলাম। ষষ্ঠ সপ্তম ত্রয়োদশ নিযুততম ইন্দ্রিয় বলছিল তাকাও, নইলে কী হারালে জানবেও না। মুহূর্তের দেরী হয়েছিল, ঘুরে তাকালাম, গায়েব। কী যে ছিল, কী যে ছিল… ছোট ছিলাম তখনও, বালক। আর নেই। স্বপ্নটা আর নেই। জ্বরটা আর নেই। ব্যথাটা আর নেই। আজকাল অবশ হয়ে গেছে, তাতেই আরাম লাগে…

কাঁচি

পৃথিবীটা একেবারে শব্দহীন হয়ে গেলে অস্বস্তি হয়। ভয় লাগে। প্রথমে মনে হয় কান খারাপ হয়ে গেছে। মনে হয় চোখে কম দেখছি, আরেকটা ইন্দ্রিয় ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন। হাত পা অসাড় হয়ে আসতে থাকে। গলা থেকে আর্তনাদটাও বের হয় না ঠিক মত। কিন্তু হয়। প্রথমটা ভাঙা। ছেঁড়া। পরেরটা দ্বিগুণ জোরে, স্পষ্ট, তার কম্পন টের পাওয়া যায়। কানের পর্দায় সেই তরঙ্গ আঘাত করে। স্বস্তি ফেরে। শোনা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে। ঢোঁক গিললে কথাও বলা যাচ্ছে দিব্যি। নৈঃশব্দকে খুব ভয় অঞ্জনের। তাই কাঁচি ঘষার এই একটানা বিরক্তিকর আওয়াজটা নিয়ে তার অভিযোগ নেই। 
 
সে আওয়াজ থেমে যায়। হঠাৎ। অঞ্জন চোখ খুলেই স্থির হয়ে যায়। কাঁচিটা চোখের বড্ড কাছে। বড্ড কাছে। হাঁ করে আছে। গিলে খেতে চায়। কাঁচির ভিতরের আঙুলদুটোয় বড় নখ, ময়লা। কাঁচি আর তার হাতের উপর থেকে নজর সরায় অঞ্জন, মোটেই স্বস্তি পায় না। মুখটা নেমে আসছে। মুখটা নেমে আসছে তার মুখের উপর। সেই নেমে আসা মুখের পিছনে একটা বড় উজ্জ্বল আলো, তাই মুখটা একটা অবয়ব ছাড়া কিছু নয়। গরম নিঃশ্বাস ছুঁচ্ছে অঞ্জনকে। অঞ্জন গন্ধ পাচ্ছে। পানমশলা। মদ। আরও কিছু। চেনা কিছু। বাসি কিছু। অঞ্জনের নেশা লাগছে। তিন আঙুল দূরে থামে মুখটা। অঞ্জনের শরীরে ঘাম বইতে থাকে। হৃদস্পন্দন যে বাড়ছে, সেটা বুঝতে নাড়ি টিপতে হবে না। অঞ্জনের দৃষ্টি নিথর, ঠোঁটের উপর। অঞ্জন তার গালে, মাথায় স্পর্শ অনুভব করে। সম্ভাবনাময় স্পর্শ। তার চোখে বিস্ফোরণ হবে। হবে। ঠোঁটটা নামছে। অপ্রতিরোধ্য ঠোঁট। নির্মোঘ আকর্ষণ তার। তার ঠোঁট লক্ষ্য করেই, সন্দেহ নেই। বেচাল দেখলেই কাঁচি? চোখে? বেচাল অঞ্জন চায় না। সে চোখ বোঁজে। সে চোখ বুঁজে থরথর করে কাঁপে, প্রতীক্ষায়। নেমে আসার প্রতীক্ষায়।
আওয়াজটা চালু হয়। চমকে ফের চোখ খোলে অঞ্জন। স্যাণ্ডো গেঞ্জির বুকে কাঁচা পাকা লোম দেখতে পায় সে এবার। বিড়ির গন্ধ। অন্য চেনা গন্ধটা বিড়ির। শামসুর খুব নৈমিত্তিক, উদাসীন চালে অঞ্জনের চুল কেটে চলে। ঘাড়ে, কানে খুচরো চুলের সুড়সুড়ি টের পায় সে। সহসাই নিজের কাছে বড্ড নগ্ন হয়ে পড়ে অঞ্জন। এটা কী হল? বুক ধড়ফড়টা বলে দিচ্ছে ব্যাপারটা কল্পনা নয়। নয়। আরও যেটা তাকে খোঁচাচ্ছে, সেটা কী হতাশা? 
 
সময় চাই অঞ্জন, সময় চাই। ভালো করে ভাবো। তুমি নিজেকে সমর্পণ করে দিলে এক্ষুণি। 
না। না। না। ও জোর করছিল। 
করছিল না। তুমিও জানো। করছিল না। তুমি নিজের ইচ্ছের সম্মুখীন হতে ভয় পাচ্ছিলে, তাই ওকে দিয়ে জোর করিয়ে নিলে… 
 
“দাড়িটা রাখবে না উড়িয়ে দেবো?” 
 
চেয়ারে ছিটকে উঠে বসে অঞ্জন। শামসুরের মুখের দিকে তাকিয়ে ঠাহর করার চেষ্টা করে সে। 
 
“কী হল? সাপে কাটল নাকি?”
 
শামসুর কাঁচি ধোয়। নীরবে কুড়িটা টাকা আয়নার সামনের টেবিলে রেখে বেরিয়ে আসে অঞ্জন। ভীষণ ভয়ে।